স্থানীয় বাজারে কয়লার সরবরাহ নিয়ে লম্বা সময় ধরেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে চীন। তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং। এ পরিস্থিতি দেশটির জন্য বড় নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে কয়লা।
জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশটির বিদ্যুৎ খাতকে পুরোপুরি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তর হতে হবে। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা প্রায় অসম্ভব। অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটি বর্তমানে কয়লার ব্যবহারকেই সাশ্রয়ী ও প্রাসঙ্গিক মনে করছে। ফলে কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দেশটির জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহে কয়লার বৃহত্তর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, ‘জ্বালানি খাতে নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।’
চীন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি। গত বছর দেশটিতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫২ শতাংশ অবদান ছিল কয়লার। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন টালমাটাল। ফলে নীতিনির্ধারকরা কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। গত বছর দেশটিতে তীব্র গরম ও খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বড় পরিসরে ব্যাহত হয়। এতে দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়।
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রাথমিকভাবে কয়লার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে চীন। এক্ষেত্রে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন গত বছর আরো ১০৬ গিগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎ সক্ষমতা তৈরির অনুমোদন দেয়। এরই মধ্যে ৫০ গিগাওয়াট সক্ষমতার কাজ শেষ হয়েছে।
দুই বছরের লম্বা বিরতি শেষে অস্ট্রিলিয়া ও চীনের মধ্যে আবারো বাণিজ্য চালু হয়েছে। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক নীতিমালাও শিথিল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে চীনের কোম্পানিগুলো অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি বাড়াচ্ছে।
মূলত ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টান পড়লে দেশটিতে কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে বেইজিং চারটি স্থানীয় কোম্পানিকে অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানির অনুমতি দেয়। চারটি কোম্পানিই রাষ্ট্রমালিকানাধীন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক কয়লা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটে।









