কর্মী সংকটে ভুগছে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দর হিথরো। উপরন্তু গ্রীষ্মকালে সাধারণত যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোকে গ্রীষ্মকালে টিকিট বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে বাতিল হচ্ছে হাজারো ফ্লাইট। তবে হিথরোর এ আহ্বানে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এমিরেটস। হিথরোর এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বিবিসি।

গ্রীষ্মকালীন টিকিট বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে জানিয়েছে এমিরেটস। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অযোগ্যতার জন্য বিমানবন্দরটি বর্তমানে এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পড়েছে।

এদিকে হিথরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাত্রী সংখ্যা সীমিত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বিমানবন্দরটির। কয়েক মাস ধরেই এ সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর কাছে একটি পরিকল্পনা চাওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা দেয়া হয়নি। দিন দিন সংকট আরো বাড়ছে।

অন্যদিকে এমিরেটস জানায়, যাত্রী সংখ্যা কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে মাত্র ৩৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা হিথরোর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি।

এ বিষয়ে হিথরো ব্যবস্থাপনার তুমুল সমালোচনা করে এক বিবৃতি পেশ করেছে এমিরেটস। কোনো কাজ, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ না করার জন্য হিথরোকে দোষারোপ করেছে সংস্থাটি। এমিরেটস জানায়, সহস্রাধিক যাত্রী অর্থ দিয়ে টিকিট কেটেছে। কয়েক মাস আগে বুকিং করেছে। এখন তাদের টিকিট বাতিল করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে জোর করছে হিথরো কর্তৃপক্ষ। অথচ কভিড-১৯ মহামারীর জন্য গত দুই বছর তারা গৃহবন্দি ছিল। এমিরেটস জানায়, হিথরোগামী ও বিমানবন্দরটি থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিথরো বিমানবন্দরে যাত্রী ভিড় সীমিত করার প্রয়াস কর্তৃপক্ষের। মহামারীর আগে বিমানবন্দরটিতে দৈনিক যাত্রী সমাগম ছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার। দৈনিক যাত্রী ভিড় এক লাখে সীমিত করায় যুক্তরাজ্যের হাজারো যাত্রীর ওপর প্রভাব পড়েছে। অনেকে শেষ মুহূর্তে এসে ফ্লাইট স্থগিতের খবর জানতে পারছেন। এতে হিথরোর ওপর ক্ষিপ্ত এমিরেটস। মোটা অংকের চার্জের জন্য আগে থেকেই হিথরোর ওপর চড়াও ছিল উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। এবার সে আগুনে ঘি পড়েছে।