আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে কভিডজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে চীন। সংক্রমণ বাড়ায় বারবার বিভিন্ন শহরে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। বিপর্যয়ে পড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা। এ পরিস্থিতি স্বল্প আয়ের পাশাপাশি ধনী চীনাদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নগদ অর্থপ্রবাহ কমে যেতে দেখছেন তারা। এ কারণে সেকেন্ডহ্যান্ড পণ্যের বাজারে বিলাসবহুল ঘড়ির সরবরাহ বেড়ে গিয়েছে। ফলে টাইমপিসগুলোর দামও দ্রুত কমে গিয়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বিলাসপণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার চীন। বিলাসবহুল
ঘড়ি ও ব্যাগের মতো পণ্যগুলোও সংকটের সময়ে নগদ অর্থের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা ভোক্তারা অতিপ্রয়োজনীয় নয়, এমন পণ্য ও সেবায় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি নগদ অর্থের উৎসের জন্য তারা রোলেক্স ঘড়ি ও হার্মিস ব্যাগের মতো বিলাসী সামগ্রী বিক্রি করছেন।
করোনা মহামারীর শুরুতেও বিলাসপণ্যে ব্যয় অব্যাহত রেখেছিলেন চীনা ভোক্তারা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলেও বিলাসপণ্যের বাজারে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলেছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সে পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে। জিরো কভিড নীতির অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির আর্থিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী সাংহাইয়ে লকাডাউন আরোপ করা হয়েছিল। এমনকি শহরটির বন্দরের কাজও সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল।
পাশাপাশি দেশটির রিয়েল এস্টেট বাজারও পর্বতসম ঋণের চাপে ধুঁকছে। এমনকি কয়েকটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সংকট মোকাবেলায় সরকার প্রণোদনারও ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে দেশটির কিছু ধনী নাগরিক নগদ অর্থপ্রবাহ কমে যেতে দেখেছেন। এ পরিস্থিতি তাদের সংগ্রহে থাকা বিলাসপণ্য বিক্রিতে প্ররোচিত করছে।
সম্প্রতি দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহূত বিলাসী ঘড়ির একটি অনলাইন প্লাটফর্ম ওয়াচেকোয় দাম কমার চিত্রটি ফুটে উঠেছে। সেখানে রোলেক্স সাবমেরিনার্স ঘড়ির দাম গত মার্চের পর থেকে ৪৬ শতাংশ কমেছে। মডেলটি ঘড়িপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। কেবল ঘড়িই নয়, অন্য বিলাসপণ্যের দামও নিম্নমুখী হয়েছে। এ সময়ে সাংহাই ও হ্যাংজু নগরীর বিলাসী ব্যাগের ডিলারশিপগুলো হারমিস বার্কিন ব্যাগের মতো পণ্যের দাম এক-পঞ্চমাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিংয়ের সেকেন্ডহ্যান্ড বিলাসবহুল ঘড়ির বিক্রেতা জেমন ওয়াং বলেন, বিলাসীপণ্যের রাজকীয় সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন একটি ধীর বাজারে প্রবেশ করেছি। এ পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ড প্যাটেক ফিলিপের মতে, আপনি কখনই একটি ঘড়ির মালিক নন। আপনি কেবল পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটির যত্ন নিন। তবে সংকটময় পরিস্থিতিতে এ দর্শন ব্যর্থ হয়ে যায়। নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট দেখা দিলে ধনীরাও বিলাসপণ্য বিক্রি করে দেন। বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে এসে পৌঁছেছি। আমার দেখা গত ২৫ বছরের ব্যবসায়িক সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল বাজার।
বাস্তবতা হলো, ব্যবসাগুলো মহামারীর মধ্যে দাম বৃদ্ধি ও কমার উভয় পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হয়েছে। সাংহাইয়ে লকডাউন ঘোষণার মাত্র ছয় মাস আগেও সেকেন্ডহ্যান্ড রোলেক্স সাবমেরিনার্সের মূল্য ২৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ী কিংবা ক্রেতা কেউ ভাবতেই পারেননি যে বাজারটি এতটা নিম্নমুখী হবে।









