মূল্যস্ফীতির চাপে ক্লান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা কাপড় কেনাকাটা এড়িয়ে যাচ্ছেন। আর এমন পরিস্থিতিতে মূল্যছাড় দিয়েও মজুদ কমানোর চেষ্টা করছে মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের কাপড় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গ্যাপও দ্বিতীয় প্রান্তিকে পোশাক কেনাকাটায় মন্দার মুখোমুখি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য বলছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ৮ শতাংশ কমে ৩৮৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ মাসের শুরুতে মার্কিন জায়ান্ট ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের এক্সিকিউটিভরা ব্যাপক ছাড় ও কাপড়ের মজুদ কমানোর কথা জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে গ্যাপের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ক্যাটরিনা ও’কনেল জানান, পোশাকের মজুদ কমিয়ে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে এমনভাবেই নিজেদের ভাণ্ডার পুনর্বিন্যাসে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের পোশাকে অনেক বেশি ছাড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা মার্জিন কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ওল্ড নেভি স্টোরগুলোয় নির্দিষ্ট আকার ও স্টাইলের পোশাক বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। আর গ্যাপকে মিড টপ আর ক্যাজুয়াল শার্টের মতো কয়েক ধরনের পোশাক নিয়ে ভুগতে হয়েছে বেশকিছু মিশ্র ভারসাম্যহীনতায়।

ক্রেতারা এখন আরো বেশি প্রচারণার মুখে পড়ছেন। কারণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মজুদ করা পোশাকের তাক পরিচ্ছন্ন করার প্রক্রিয়া বজায় রেখেছে। ও’কনেল জানান, তার প্রত্যাশা তৃতীয় প্রান্তিকে কাপড় মজুদের মাত্রা অনেকটা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতোই থাকবে। পরে সেটা চতুর্থ প্রান্তিকে গিয়ে উন্নীত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও অনুষজ্ঞ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়েনি। সেনসাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে সেসবের মোট গড় মাসিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। আবেরক্রমবি ও ফিচের সবচেয়ে কম মূল্যের পণ্যের সংগ্রহ হলিস্টারের বিক্রিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমে গিয়েছে ১৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্যান্টের স্টাইল ও মূল ক্যাটাগরি থেকে দূরে সরে গিয়ে আবেরক্রমবির বিক্রি বেড়েছে ৫ শতাংশ।

চলতি সপ্তাহে ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেট, আরবান আউটফিটারস এবং কোহল’স বিশ্লেষকদের জানিয়েছে, ক্রেতারা এখন শুধু নির্দিষ্ট ধরনের পোশাকই কিনছেন। যদিও সেসব ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেয়নি।

আরবান আউটফিটার ও ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেট জানিয়েছে, তরুণ গ্রাহকদের জন্য পোশাক বানায় যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের বিক্রি কমে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্টিন ওয়াটার্স বলেন, বছরের শেষার্ধে আমরা পোশাক কেনার ক্ষেত্রে আরো বেশি বিচক্ষণতা অবলম্বন করব।

আরবান’সের সিইও রিচার্ড হাইনি জানান, আরবান আউটফিটারসের তরুণ, কম ধনী ক্রেতারা পুরো দামে পোশাক কেনা আপাতত বন্ধ রেখেছেন, তারা কেনার আগে কোনো ছাড়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে কোহল’স জানায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছোটদের পোশাক বিক্রি কমে যায়। কারণ ডিজাইনগুলো খুব বেশি ফ্যাশনেবল ছিল, আর সেখানে মৌলিক বিষয়গুলো যথেষ্ট ছিল না।