টানা তিনদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ফিউচারস মার্কেটে গতকাল কমেছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম। প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের বাজারদরে পতনের কারণেই নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে পণ্যটির দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে গতকাল মে মাসে সরবরাহের জন্য প্রতি টন পাম অয়েলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৩৯ রিঙ্গিত বা ৯৩৪ ডলার ২১ সেন্ট। আগের কার্যদিবসের তুলনায় যা দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। এর আগে টানা তিনদিন পণ্যটির দাম ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছিল।

মুম্বাইভিত্তিক ভোজ্যতেলের ব্রোকার সানবিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিল কুমার বাগানি বলেন, ‘শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম কমে যাওয়ায় মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী মজুদও দাম কমার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে গতকাল সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডালিয়ান ফিউচারসে দাম কমেছে দশমিক ১১ শতাংশ। সেখানে পাম অয়েলের দাম কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ দুই দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উৎপাদন কমার পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উৎপাদন কমলে পণ্যটির দাম বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৩৪৩ রিঙ্গিত পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় গত মাসে পাম অয়েল উৎপাদন ও রফতানি দুটোই কমেছে। ফলে দেশটিকে বিদ্যমান মজুদ থেকেই চাহিদা পূরণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হয়েছে। এ কারণে ওই মাসে পাম অয়েলের মজুদ কমে পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ সমীক্ষায় অংশ নেয় ১১টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সমীক্ষার তথ্যমতে, জানুয়ারিতে পাম অয়েলের মোট মজুদের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৮০ হাজার টন, যা ডিসেম্বরের চেয়ে দশমিক ৬৬ শতাংশ কম।

মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। মৌসুমি ঝড় ও বন্যায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দেশটির পাম অয়েল উৎপাদকরা। বৈরী আবহাওয়ায় গত মাসে দেশটিতে পাম অয়েল উৎপাদন ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মাসভিত্তিক উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯০ হাজার টনে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

পণ্যটির রফতানি ২১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে সাড়ে ১১ লাখ টনে নেমেছে। মূলত শীর্ষ ক্রেতা দেশ চীন ও ভারতে জাহাজীকরণের পরিমাণ শ্লথ হয়ে আসায় রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।