চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সিএটিএলের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। লকডাউনের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) বিক্রি বাড়াতে প্রণোদনা দেয় চীনা সরকার। এরই জেরে মুনাফা বেড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ইভি ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেসলা, ফক্সওয়াগন ও বিএমডব্লিউসহ বিভিন্ন অটোমোবাইল জায়ান্টরা সিএটিএলের গ্রাহক। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সিএটিএলের নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬৪ শতাংশ বেড়ে ৬৬৮ কোটি ইউয়ানে (৯৭ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার) উন্নীত হয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিএটিএলর আয়ও অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪২৯ কোটি ইউয়ান। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ২ হাজার ৪৯১ কোটি ইউয়ান।

এক বিবৃতিতে সিএটিএল জানায়, কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা গেলে সাংহাইসহ চীনের বিভিন্ন শহরে লকডাউন জারি করা হয়। এতে দেশীয় বাজারের ওপর প্রভাব পড়ে। এ সত্ত্বেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ইভিতে প্রণোদনার কারণে ভোক্তা চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন মডেলের ইভি তৈরি করে। চীন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে লকডাউন সত্ত্বেও ইভি বিক্রির প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল।

চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারারসের তথ্য বলছে, বছরের প্রথমার্ধে চীনে ইভি বিক্রি ১২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে সব ধরনের গাড়ি বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এদিকে লিথিয়ামসহ বিভিন্ন ধাতুর মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সিএটিএলের ইভি ব্যাটারির মুনাফা মার্জিন ১৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছরের শেষ নাগাদও এ হার ছিল ২২ শতাংশে।

সিএটিএল জানিয়েছে, মুনাফার মার্জিন বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশী বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপে মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফোর্ডকে ইভি ব্যাটারি সরবরাহ করা হবে।

এর আগে সিএটিএল জানিয়েছিল, হাঙ্গেরিতে ৭৬০ কোটি ডলারের একটি ব্যাটারি কারখানা তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি, যা ইউরোপের বৃহত্তম ইভি ব্যাটারির কারখানা হতে চলেছে। বছরের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক ইভি ব্যাটারির বাজারে সিএটিএলের বাজার হিস্যা ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এসএনই রিসার্চের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।