যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি শক্তিশালীভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। জুনে মার্কিন নাগরিকরা পেট্রল ও অন্যান্য পণ্যে আরো বেশি ব্যয় করেছে। এ পরিস্থিতি আসন্ন মন্দার আশঙ্কা দূর করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্রও ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছে। গত মাসে শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমে গিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ আক্রমণাত্মকভাবে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ভোক্তা চাহিদায় পতনেরও আশঙ্কা রয়েছে। খবর রয়টার্স।

খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের দুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়। গত মাসে দেশটির বার্ষিক ভোক্তা মূল্যসূচক ১৯৮১ সালের পরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অর্থনীতিও জুনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। সব মিলিয়ে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি মাসে সুদের হার আরো ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে তুলবে।

টরন্টোভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাল গুতেয়ারি বলেন, উচ্চ সঞ্চয় ও ক্রমবর্ধমান মজুরির কারণে মার্কিন পরিবারগুলো আগের মতোই অর্থ ব্যয় করা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত এ ব্যয় বেশি দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। প্রকৃতপক্ষে এমন নয় যে, তারা আরো বেশি জিনিসপত্র কিনছে।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত মাসে খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে মে মাসে বিক্রি দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। যদিও পূর্বের প্রতিবেদনে মে মাসে দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের কথা বলা হয়েছিল। বার্ষিক হিসাবে জুনে খুচরা বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এটি প্রাক-কভিড পর্যায়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা খুচরা বিক্রি মাসিক ভিত্তিতে দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। খুচরা বিক্রিতে বেশির ভাগ অবদানই পণ্যের। এ হিসাবে মূল্যস্ফীতির হার সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্চ থেকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।

গাড়ি শিল্পের পরামর্শক গ্রুপ এএএর তথ্য অনুসারে, জুনে গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাম্পে দাম গত বছরের রেকর্ড উচ্চতা থেকে কমেছে এবং গড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ৬৭ সেন্টে নেমেছে। পরিষেবা খাতের মধ্যে কেবল বার ও রেস্তোরাঁয় খুচরা বিক্রি ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে আসবাব, ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রপাতির খুচরা বিক্রি শক্তিশালী ছিল। খেলাধুলা সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও বইয়ের দোকানেও রসিদ বেড়েছে। পাশাপাশি অনলাইন স্টোরের বিক্রি ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে পোশাকের মতো বিল্ডিং সামগ্রী, বাগানের সরঞ্জামের বিক্রিতে পতন হয়েছে।

এদিকে খুচরা বিক্রি শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন খাত দুর্বল রয়ে গিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে কারখানার উৎপাদন দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো শিল্পোৎপাদন সংকুচিত হলো।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের ট্র্যাক করা বেশ কয়েকটি সূচকের একটি হলো শিল্পোৎপাদন। এটিকে মন্দার সরকারি দলিল হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউডিবিওএনডিএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি বলেন, এটা নিশ্চিত নয় যে শিল্পোৎপাদনের মন্দা মানে পুরো অর্থনীতিতে মন্দা। ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে কারখানা কার্যক্রম যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। সে সময় জ্বালানি তেলের মূল্যকে দায়ী করা হয়েছিল। সেই মন্দাও পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে এমনটা বারবার নাও হতে পারে। কারণ এ খাতের মন্দাকে পুরো অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়।