গত বছর ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চা রফতানি কমতির দিকে ছিল। তবে এ মন্দা ভাবেও রফতানিকারকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দামের কারণে রফতানি আগের তুলনায় কমে এলেও চা রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা বাড়তি আয় করতে পেরেছেন। এতে বছর শেষে ভারতীয় চা রফতানিকারকদের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।

টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চা রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ২৪ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা রফতানি করেছেন। ২০১৮ সালে দেশটি থেকে মোট ২৫ কোটি ৬০ লাখ ৬ হাজার কেজি চা রফতানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারত থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানি কমেছে ৭৭ লাখ ৭০ হাজার কেজি।

তবে রফতানির পরিমাণে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত বছর চা রফতানি বাবদ ভারতীয় রফতানিকারকদের আয় বাড়তির দিকে ছিল। টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ২০১৯ সালে চা রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৬১০ দশমিক ৬৫ কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) আয় করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে চা রফতানি খাত থেকে ভারতীয় রফতানিকারকদের আয় ছিল ৫ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৩৩ কোটি রুপি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পানীয় পণ্যটির রফতানি বাবদ ভারতীয় রফতানিকারকদের আয় বেড়েছে ২৭৫ দশমিক ৩২ কোটি রুপি।

রফতানি আয় বৃদ্ধির পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে চায়ের বাড়তি দাম। টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত বছর পানীয় পণ্যটির দামে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। ভারতের বাজারে এ সময় প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ২২৫ দশমিক ৯৭ রুপি। আগের বছর দেশটিতে প্রতি কেজি চা গড়ে ২০৮ দশমিক ৩৬ রুপিতে বিক্রি হয়েছিল। বছরান্তে পানীয় পণ্যটির গড় দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৭ দশমিক ৬১ রুপি। বাড়তি এ দাম রফতানির পরিমাণ কমার পরও বছর শেষে চা রফতানি খাত থেকে রফতানিকারকদের আয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে গ্লোবাল টি ডাইজেস্টে বলা হয়েছে, বিদায়ী বছরে ভারতে ১৩৮ কোটি ৯৭ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। বাড়তি উৎপাদনের পরও বিলম্বে সরবরাহ ও মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থানের কারণে দেশটিতে চায়ের দাম বাড়তির দিকে ছিল।