শ্রীলংকার চা শিল্পের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। দেশটি বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চা রফতানিকারক। দেশী-বিদেশী ক্রেতারা রাজধানী কলম্বোর আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র থেকে চা কিনে থাকেন। সুদীর্ঘ ১২৬ বছর ধরে এ কেন্দ্রে নিয়মিত চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বাদ সেধেছে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী। এর জের ধরে লকডাউন চলমান থাকায় চায়ের নিলাম বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বলে কি চা বিক্রি বন্ধ থাকবে? এ সমস্যা সমাধানে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনলাইনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কলম্বো টি অকশন। ক্রেতারা ঘরে বসেই ই-অকশনে এক ক্লিকে কিনতে পারছেন চা। খবর কলম্বো পোস্ট ও বিজনেস লাইন।

কলম্বো টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলংকায় গত ৪-১৯ এপ্রিলের মধ্যে তিনটি ই-অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব অনলাইন নিলামে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। এ সময় চা বিক্রি বাবদ দেশটি সব মিলিয়ে ১৫০ কোটি ডলার আয় করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জয়ন্ত করুনারত্ন বলেন, কলম্বো টি অকশন ডিজিটালাইজড করার চেষ্টা দীর্ঘদিন থেকেই চলছিল। তবে নানা কারণে এ উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। পণ্যের ক্যাটাগরি নির্ধারণ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের আস্থা অর্জন—এমন নানা বিষয়ে সংশয় ছিল। তবে এবার নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চা বিক্রি একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। অনেকটা তড়িঘড়ি করেই চায়ের ই-অকশন চালু করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে সাড়াও মিলেছে ভালো। আগামীতে এ ই-অকশন চালু রাখা হবে। নিয়মনীতিগুলোকে সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা হবে। যাতে দেশী-বিদেশী ক্রেতারা ঘরে বসে সহজেই চা কিনতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, কলম্বো টি অকশন ১২৬ বছরের পুরনো। সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়ে এখানে

চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম হয়। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তন করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন কিছু তারা সহজে গ্রহণ করবেন কিনা, সেটা ভাবতে হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ই-অকশন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ভালোই সাড়া ফেলেছে।

উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২০ মার্চ দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে শ্রীলংকা সরকার। এ কারণে নিলাম কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে চা বেচাকেনা অসম্ভব হয়ে ওঠে। এর জের ধরে স্থানীয় একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে চায়ের ই-অকশনের প্লাটফর্ম তৈরি করে কলম্বো টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম ই-অকশনে ৩০০ ক্রেতা ও আটটি ব্রোকার প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।