ফিলিপাইনের রফতানিযোগ্য পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম নারকেল তেল। পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যে দেশটির অবস্থান শীর্ষে। তবে চলতি বছর ফিলিপাইন থেকে পণ্যটির রফতানি কমে গত তিন বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইএসডিএ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেলের উদ্বৃত্ত সরবরাহ এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে নারকেলের শুষ্ক শাঁস উৎপাদন কমে যাওয়াও প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। খবর ফিলিপাইন স্টার।
ইউএসডিএর ফরেন এগ্রিকালচার সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ফিলিপাইন থেকে সব মিলিয়ে ৮ লাখ ১০ হাজার টন নারকেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে দেশটি থেকে মোট ১০ লাখ ২৫ হাজার টন নারকেল তেল রফতানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি ২ লাখ ১৫ হাজার টন কমে যেতে পারে। এ পূর্বাভাস সত্য হলে তা হবে তিন বছরের
মধ্যে ফিলিপাইনের নারকেল তেল রফতানির সর্বনিম্ন রেকর্ড।
ফিলিপাইন থেকে নারকেল তেল রফতানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ উৎপাদন কম হওয়া। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশটিতে নারকেল তেলের মোট
উৎপাদন কমে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টনে নামতে পারে। ২০১৯ সালে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এশিয়ার দেশটিতে নারকেল তেলের উৎপাদন কমতে পারে ৫০ হাজার টন।
এদিকে দেশটিতে নারকেল তেলের উৎপাদন কমার পেছনের কারণ নারকেলের শুষ্ক শাঁস উৎপাদন কমে যাওয়া। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফিলিপাইনে এ বছর নারকেলের শুষ্ক শাঁস উৎপাদন কমে ২৫ লাখ ১০
হাজার টনে নামতে পারে। আগের বছরেও দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমে যেতে পারে ৫০ হাজার টন। প্রধান কাঁচামাল উৎপাদনে এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেশটির নারকেল তেল উৎপাদন ক্রমেই কমিয়ে আনছে।
ইউএসডিএ জানিয়েছে, ফিলিপাইনে নারকেলের শুষ্ক শাঁস
উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে। ফলে কমে যাচ্ছে নারকেল তেল উৎপাদন, যা পণ্যটির রফতানিতে মন্দা ভাব টেনে আনছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেলের উদ্বৃত্ত সরবরাহে ভরপুর। ফলে পণ্যটির রফতানি চাহিদায়ও নিম্নমুখী প্রবণতা বজায়
রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নারকেলের শুষ্ক শাঁস উৎপাদন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। প্রকৃতিগত কারণে চলতি বছর ফিলিপাইনে নারকেলের শুষ্ক শাঁস উৎপাদন কমে যেতে পারে। একটা নারকেল গাছ সাধারণত ৮০-৯০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকে। ছয়-দশ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম ফলন দিতে শুরু করে। তবে ১৫-২০ বছর বয়সে গাছটি থেকে বেশি ফলন পাওয়া যায়। এরপর গাছটির ফলনক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফিলিপাইনের প্রায় ৮০টি প্রদেশের অধিকাংশ গাছের বয়স ৭০ বছরের কাছাকাছি, যা দেশটির মোট আবাদি জমির এক-চতুর্থাংশের বেশি জায়গা দখল করে রয়েছে।
তবে চলতি বছর মন্দা ভাব বজার থাকলেও ২০২১ সালে ফিলিপাইনের নারকেল রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ২০২১ সালে শিল্প খাতে পণ্যটির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ আগামী বছর থেকে নির্দিষ্ট মাত্রায় বায়োডিজেল উৎপাদন বাধ্যতামূলক করেছে। এতে দুই-তিন শতাংশ নারকেল তেল মিশ্রণ অপরিহার্য। ফলে নারকেল তেলের বৈশ্বিক রফতানি চাহিদা বেড়ে যেতে পারে, যা ফিলিপাইনের রফতানি খাতকে চাঙ্গা করতে পারে।









