চলতি বছর অ্যালুমিনিয়ামের দাম চড়া থাকবে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনে কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

ফিচ গ্রুপের গবেষণা ইউনিট ফিচ সলিউশনস ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড কান্ট্রি রিস্ক জানায়, অ্যালুমিনিয়ামের দাম বর্তমানে অনেক বেশি। তবে ২০২২ সালে যে হার ছিল সে তুলনায় কম। অন্যদিকে গোল্ডম্যান স্যাকসের ধারণা, অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরো বাড়বে।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম ইনস্টিটিউট জানায়, জানুয়ারিতে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। যেখানে ২০২২ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টন। এর বিপরীতে চলতি বছর বিশ্বে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। মূলতে চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কভিড-১৯-সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার কারণে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিচ সলিউশনস জানায়, ২০২৩ সালে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের গড় মূল্য ২ হাজার ৬০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। মূলত সরবরাহ সংকট ও চীনে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কারণে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় এ প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানায়, চলদি বছর প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের গড় মূল্য ৩ হাজার ১২৫ ডলার থাকবে। যেখানে আগে ২ হাজার ৫৬৩ ডলারের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের গড় মূল্য টনপ্রতি ৩ হাজার ৫৭০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত সপ্তাহে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাসের চুক্তিতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ২ হাজার ৪৫৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও চীনে উচ্চ উৎপাদনের আশঙ্কায় অ্যালুমিনিয়ামের দাম কমেছিল। সে সময় বিনিয়োগকারীরাও শীর্ষ অবস্থান থেকে দূরে ছিল। গোল্ডম্যান স্যাকস জানায়, সরবরাহ সংকটের মধ্যে চীন ও ইউরোপের দেশগুলোয় চাহিদা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে।

চলতি বছর অ্যালুমিনিয়ামের উচ্চমূল্য থাকার আরেকটি কারণের কথা জানিয়েছে গোল্ডম্যান। সেটি হলো বর্তমানে যে অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে রয়েছে। এক বছর আগে ১৪ টন থাকলেও বর্তমানে তা নয় লাখ টন কমেছে।