খাদ্য, জ্বালানি পণ্যের মূল্য ক্রমবর্ধমান রয়েছে। এতে অতিপ্রয়োজনীয় নয়— এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন ভোক্তারা। এ অবস্থায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) এবং ২০২২ সালের মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়েছে ওয়ালমার্ট। উচ্চ মুনাফা মার্জিন আসা পোশাক বিক্রি কমে যাওয়ায় দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করেছে মার্কিন রিটেইল জায়ান্টটি।

এপির খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভোক্তা আচরণ ওয়ালমার্টকে বাড়ির আসবাব ও ইলেকট্রনিকসের মতো সাধারণ পণ্যদ্রব্যের আইটেমগুলোয় মূল্য ছাড় দিতে বাধ্য করছে। মুনাফার পূর্বাভাস কমানোর পর বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরে পতন হয়েছে।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ওয়ালমার্টের মুনাফার পূর্বাভাস কমানোর এ পদক্ষেপ বিরল ঘটনা। এটি তুলে ধরেছে কীভাবে চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি সমগ্র ভোক্তানির্ভর খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংস্থাটির এমন ঘোষণার পর টার্গেট, ম্যাসি’স ও কোহল’স-এর মতো বড় বড় মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে পতন দেখা দেয়।

গ্লোবালডাটা রিটেইলের এমডি নীল সন্ডার্স বলেন, দেশের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ওয়ালমার্ট পুরো খাতের আয়নাস্বরূপ। বর্তমানে সব খুচরা বিক্রেতা এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

ওয়ালমার্টের এ খবর এমন সময়ে প্রকাশিত হলো যখন ফেডারেল রিজার্ভ আজ বুধবার বেঞ্চমার্ক সুদের হার আরেকবার বাড়াতে চলেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপ ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর জন্য ঋণ গ্রহণকে আরো ব্যয়বহুল করে তুলছে। ফলে এ পদক্ষেপের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন সময়ে এবং পুরো বছর শেয়ারপ্রতি মুনাফা যথাক্রমে প্রায় ৮-৯ শতাংশ এবং ১১-১৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে ভোক্তারা অর্থ সঞ্চয়ের জন্য ওয়ালমার্টকে বেছে নিচ্ছে। এটি মুদি পণ্য বিক্রিতে ক্রমবর্ধমান বাজার হিস্যার বিষয়টি প্রতিফলিত করছে।