তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে কয়েক মাসে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব ফ্লাভিয়া রায়ন সম্প্রতি জানিয়েছেন, দেশীয় গ্যাস সরবরাহের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার আগে এটাই হতে যাচ্ছে সর্বশেষ বড় ক্রয়াদেশ। জ্বালানি ঘাটতি পূরণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।
আর্জেন্টিনা বিশ্বের বৃহত্তম শেল গ্যাস রিজার্ভকারী দেশগুলোর অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পরিবহন ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দেশটি এলএনজিসহ প্রচুর জ্বালানি আমদানি করেছে। ২০২২ সালে দেশটির জ্বালানি ঘাটতি ছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। দেশীয় খাতে এলএনজি সরবরাহ বাড়লে বা চাহিদা কমলে চলতি বছরে দেশটির আমদানির পরিমাণও কমবে। সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রতিশ্রুতি পূরণে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য এরই মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ করতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের হাউসটনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক জ্বালানি সম্মেলন সিইআরএউয়িকে ফ্লাভিয়া রায়ন বলেন, ‘এটিই হবে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ বড় এলএনজি ক্রয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী বছরগুলোয় শুধু সর্বোচ্চ চাহিদা পূরণের জন্য আমদানি করা হতে পারে।’
জ্বালানি সচিব জানিয়েছেন, দেশটি চলতি বছর প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট (বিটিইউ) প্রতি গড়ে ২০ ডলার ৮০ সেন্ট মূল্য দেয়ার আশা করছে। যেখানে ২০২২ সালে প্রতি মিলিয়ন বিটিইউ গড়ে ব্যয় হয়েছে ৪০ ডলার করে। ফলে ওই সময় অন্যান্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বাধ্য হয়েছে দেশটি।
নিজস্ব গ্যাস পাইপলাইনের দ্বিতীয় ধাপের উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে আলোচনা করছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। গ্যাস লাইনটির প্রথম ধাপ থেকে দেশীয় ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা দরকার। চলতি বছরের জুনে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রায়ন বলেন, ‘জ্বালানি খাতের রূপান্তর লাতিন আমেরিকা ও বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জন্য একটি সুযোগ।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্জেন্টিনা ভবিষ্যতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সাপ্লাইয়ের বিষয়ে ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশেষ করে এলএনজি গ্যাস সরবরাহে। কেননা ব্রাজিল সরকার গ্যাস আমদানির উৎস ও প্রকারগুলোয় বৈচিত্র্য আনতে চায়। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি সংস্থা ওয়াইপিএফ ও মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প নিয়ে প্রথম ধাপের আলোচনা করছে।









