চীনসহ বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের জের ধরে মালয়েশিয়া থেকে রফতানি কমার আশঙ্কায় আগে থেকেই পাম অয়েলের বাজার পরিস্থিতি নিম্নমুখী ছিল। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে মালয়েশীয় পাম অয়েলের বাজারে বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ কার্যদিবসে দেশটিতে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। এর মধ্য দিয়ে মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম চার মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। খবর স্টার অনলাইন ও বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ কার্যদিবসে মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৬ রিঙ্গিত (মালয়েশীয় মুদ্রা) বা ৬০০ ডলার ৭৬ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ১০ শতাংশ কম। একদিনের ব্যবধানে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ২৭ রিঙ্গিত কমেছে। দিনের শুরুতে মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতে নেমে এসেছিল। গত বছরের ৪ নভেম্বরের পর এটাই মালয়েশীয় পাম অয়েলের সর্বনিম্ন দাম।

নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক পাম অয়েলের বেচাকেনা কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষত চীনের বাজারে মালয়েশিয়া থেকে রফতানি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ভারতও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রফতানি কমে আসার আশঙ্কা পণ্যটির দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক মাহাথির মোহাম্মদ। নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের অভিপ্রায়ে তার এ আকস্মিক পদত্যাগ। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথির মোহাম্মদ দায়িত্বে রয়েছেন। তবে জোট গঠন ও দেশটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ পরিস্থিতি দেশটিতে পাম অয়েলের বাজারকে নিম্নমুখী করেছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা।

তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে এলে চীনের বাজারে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তখন পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।