টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জুলাইয়ে জাপানের বিভিন্ন কারখানায় বেড়েছে উৎপাদন। দেশটিতে বিভিন্ন মোটর যানবাহনের যন্ত্রপাতির উৎপাদন বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। সেই সঙ্গে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উৎপাদক ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ইতিবাচক সূচনা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
অন্য একটি তথ্য বলছে, জুলাইয়ে দেশটিতে ধারাবাহিক পঞ্চম মাসের মতো বেড়েছে খুচরা বিক্রি। এর ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি চলতি প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয়ের স্থিতিস্থাপকতার কারণে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য বলছে, সামঞ্জস্য করা শিল্পোৎপাদন আগের মাসের তুলনায় জুলাইয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে। যাত্রীবাহী গাড়ি ও ট্রাকের বেশি উৎপাদন হওয়ার কারণেই এ অগ্রগতি হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ কিছু যন্ত্রপাতি তৈরিও এ অগ্রগতিতে সাহায্য করেছে। যদিও সেই সংখ্যায় অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল।
নোরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, গত মাসেও শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে একটা বড় উল্লম্ফন ছিল। তাই এবার আমি কিছুটা বাধা বা অসুবিধা হবে বলে ধারণা করেছিলাম। কিন্তু গাড়ি ও উৎপাদনে ব্যবহূত অন্যান্য পণ্য মোট উৎপাদনকে বেশ ওপরে তুলে দিয়েছে। চীনের লকডাউন, সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে সরবরাহে বাধাগুলো দেখা যাচ্ছে অনেক দিন থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর থেকেই এসব সংকট দেখা যাচ্ছে।
তবে এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও ডিভাইসের উৎপাদন কমেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। এর কারণ মূলত মেমোরি চিপের ঘাটতিই। ২০১৩ সাল যেসব তুলনীয় তথ্য রয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় পতন।
জাপানের প্রধান অটোমেকার টয়োটা মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের বৈশ্বিক যানবাহন উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় জুলাইয়ে কমেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সে হিসেবে সংস্থাটি চতুর্থ মাসের মতো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গাড়ি উৎপাদনে ব্যর্থ হয়েছে।
অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয় দেশটির উৎপাদনকারীদের ওপর জরিপ চালিয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছে আগস্টে উৎপাদন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে আর সেপ্টেম্বরে বাড়বে দশমিক ৮ শতাংশ।
অন্য আরেকটি তথ্য বলছে, খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ছিল, আগের বছরের তুলনায় জুলাইয়ে সেটা বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। সেই হিসেবে এবার খুচরা বিক্রি বাড়ল ধারাবাহিক পঞ্চম মাসের মতো। এর আগে রয়টার্সের জরিপের ভিত্তিতে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ বৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। খুচরা বিক্রি বাড়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে ওষুধ ও প্রসাধনী, পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছে সাধারণ পণ্যদ্রব্য।









