নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর জের ধরে নিকেলের দামে টানা মন্দা ভাব কাটতে শুরু করেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) ব্যবহারিক ধাতুটির দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। মার্চের শেষ দিকে যেখানে প্রতি টন নিকেলের দাম ১১ হাজার ডলারের সামান্য ওপরে ছিল, এখন ব্যবহারিক ধাতুটির দাম টনপ্রতি ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত চীনে মহামারী পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় নিকেলের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে দাম বাড়ছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর মেটাল বুলেটিন।

এলএমই প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেল ১১ হাজার ৫৫ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এরপর থেকে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম একটু একটু করে বাড়তে শুরু করে। মার্চের শেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম দাঁড়ায় ১১ হাজার ২৩৫ ডলারে।

এপ্রিলের প্রথম কার্যদিবসে এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম ছিল ১১ হাজার ২২০ ডলার। ৬ এপ্রিল তা আরো কমে ১১ হাজার ১৬২ ডলারে নেমে আসে। এর পরই এলএমইতে নিকেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয়।

বাড়তে বাড়তে ১৪ এপ্রিল ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম ওঠে ১১ হাজার ৭২৩ ডলারে। ২০ এপ্রিল নিকেলের দাম ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওই দিন ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেল বিক্রি হয় ১২ হাজার ২৫৫ ডলারে। গত এক মাসের মধ্যে এটাই এলএমইতে নিকেলের সর্বোচ্চ দাম।

গত ২২ এপ্রিল এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম নেমে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৫৫ ডলারে। ব্যবহারিক ধাতুটির দাম কিছুটা কমে এলেও তা গত এক মাস আগের অবস্থানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ২৩ এপ্রিল এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম ফের ১২ হাজার ১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মহামারী পরিস্থিতিতে বড় উন্নতি করে চীন। ওই সময় দেশটির উহানে লকডাউন তুলে নেয়া হয়। এতে অর্থনীতি গতিশীল হয়ে নিকেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে দাম বাড়তে শুরু করে ব্যবহারিক ধাতুটির। মূল্য বৃদ্ধির এ প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম প্রায় ১ হাজার ডলার বেড়েছে।