আইনানুসারে একক কোনো কোম্পানির শেয়ারে মিউচুয়াল ফান্ডের একক স্কিমের মোট সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যায় না। কিন্তু বিনিয়োগ করা শেয়ারদর কমে যাওয়ার কারণে বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর পক্ষে এ বিনিয়োগসীমা পরিপালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ফান্ডগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত এ শর্ত পরিপালন থেকে বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ করা সিকিউরিটিজের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে যেসব বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড কর্তৃক কোনো একক কোম্পানি শেয়ার বা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগসীমা কিংবা বিধিনিষেধ সম্পর্কিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১-এর পঞ্চম তফসিলের ২ নং শর্ত পরিপালন করা সম্ভব হয়নি তাদের এ শর্ত পরিপালন থেকে ফ্লোর প্রাইসসংক্রান্ত আদেশ বাতিল না করা পর্যন্ত সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হল। তবে বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অধীনে নতুন কোনো সিকিউরিটিজ ক্রয় বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগসীমার এ সাময়িক অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে না।

প্রসঙ্গত, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১-এর পঞ্চম তফসিলের ২ নং শর্তে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডের কোনো একক স্কিমের মোট সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে না।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ২০৭ পয়েন্টে। বছরের শেষ কার্যদিবসে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। এক বছরে সূচকটি বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময়ে বাজার মূলধন ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৯৬০ কোটি টাকা, ২০২৩ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকায়। এ সময়ে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৩ সালে আগের বছরের তুলনায় শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪২ শতাংশ। আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এ বছর ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ২৩ শতাংশ ও শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ কমেছে।

পুঁজিবাজারে খাতভিত্তিক শেয়ারে রিটার্ন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারে কোনো রিটার্ন আসেনি। প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের ১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতের শেয়ারে ২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে এ সময় ওষুধ ও সিরামিক খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অবশ্য বীমা ও পাট খাতের মতো স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে রিটার্ন ছিল দুই অংকের ঘরে।

গত বছর পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা সীমাবদ্ধ ছিল ২০০ পয়েন্টে এবং আগের বছরের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফ্লোর প্রাইস আরোপের কারণে বাজারে থাকা শেয়ারের বড় একটি অংশই লেনদেন হয়নি এবং এতে বাজারে তারল্যপ্রবাহ কমে গেছে। ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন ছিল মোট বাজার মূলধনের (ডেবট সিকিউরিটিজ বাদে) প্রায় ৬০ শতাংশ।