কভিডজনিত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জুলাইয়ে জাপানের পারিবারিক ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ২৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোয় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় পারিবারিক ব্যয় বাড়লেও এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাইনিচি প্রকাশিত এক প্রতিবেদেন বলা হয়, এ সময়ে দেশটির প্রকৃত মজুরি থেকে শুরু করে সেবা খাতের কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের তথ্য-উপাত্তে ব্যক্তিগত খরচে স্থবিরতা দেখা গিয়েছে।

শিনকিন সেন্ট্রাল ব্যাংক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তাকুমি সুনোদা বলেন, মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ছয় মাসে দেশটির ভোক্তা ব্যয় পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি এক উপাত্তে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে জাপানের পারিবারিক ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে এ হার কিছুটা কম। পূর্বাভাসে ৪ দশমিক ২ শতাংশের কথা বলা ছিল। জুনেও দেশটির পারিবারিক ব্যয় বাড়ার হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এক মাস আগের তুলনায় জুলাইয়ে পারিবারিক ব্যয় কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। যদিও অর্থনীতিবিদরা দশমিক ৬ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। 

সরকারি এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, আগামী মাসগুলোয় দেশটির জনসাধারণের ব্যয় আরো কমবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তাদের ব্যয়ে আগ্রহ কমে আসবে।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা গিয়েছে জাপানে কভিড সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ জুলাইয়ে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ডটিও এ দেশের দখলে রয়েছে। কিন্তু সরকার কভিডজনিত বিধিনিষেধ পুনরায় আরোপ করেনি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, জিম ও খেলনার মতো অবসর সময় কাটানো পণ্যের মূল্য ২০২১ সালের তুলনায় গত জুলাইয়ে বেড়েছে। হোটেল ব্যয় বছরওয়ারি ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

দেশটির বিশ্লেষকরা বলেন, জাপানি ভোক্তাদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া। কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী পণ্য মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানীকৃত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মিজুহো রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাইসুকি সাকাই বলেন, আগামী ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার খুব বেশি বাড়ার আশা নেই। এমনটা হলে জাপানি পরিবারগুলোকে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় বেশি করতে হবে।