চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দুবাইয়ের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা ৩৭০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। মুনাফার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি আবুধাবির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা ৫০ শতাংশ বেড়ে ৭২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। খবর খালিজ টাইমস।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি রফতানি কমিয়ে দেয় রাশিয়া। অন্যদিকে পশ্চিমা মহলও পুতিন সরকারের থেকে আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণেই জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটির মুনাফা অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই ও আবুধাবির সব খাতেই মুনাফা প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

এ বিষয়ে কামকো ইনভেস্ট বলেছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা ও ব্যবসা মনোভাব শক্তিশালী ছিল। যদিও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হারের ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি শ্লথ ছিল। মূল্যস্ফীতি হারের ঊর্ধ্বমুখিতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জিসিসি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট নিট মুনাফা ৭ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্রথম প্রান্তিকে সামষ্টিক নিট মুনাফা ছিল ৬ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। সে হিসেবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামষ্টিক নিট মুনাফা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এ বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জ্বালানি, ব্যাংকিং ও উপাদান খাতে প্রকৃত মুনাফা প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল।

প্রান্তিক পর্যায়ে জিসিসি ব্যাংকিং খাতের নিট আয় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। কামকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত ব্যাংক আয়ের ঊর্ধ্বমুখিতাই মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় প্রবৃদ্ধির মূল চালক ছিল ব্যাংক, উপযোগিতা ও আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। ওই সময়ে তিন খাত থেকে আয় ছিল সামষ্টিক আয়ের ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন বলছে, দুবাই স্টক এক্সচেঞ্জের ১২টি খাতের মধ্যে আটটি খাতের মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। অন্যদিকে বীমা ও ভোক্তা পরিষেবাসহ বাকি চার খাতের মুনাফা নিম্নমুখী ছিল।

বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দুবাইয়ের ব্যাংকিং খাতের নিট মুনাফা ৬২ কোটি ১৫ লাখ বেড়ে ১ হাজার ৮০০ কোটিতে উন্নীত হয়। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতের নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

এদিকে আবুধাবির ব্যাংকিং খাতে বাকি জিসিসি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিট মুনাফা বেড়েছে। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামষ্টিক খাতের মুনাফা ছিল ১৪০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা আরো বেড়ে ১৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। সে হিসেবে এক বছরে সামষ্টিক খাতে মুনাফা বেড়েছে ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বা ১৪ শতাংশ।