পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ড ইস্যুর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতিপত্র পেয়েছে। এর আগে কমিশনের ৮৪৫তম সভায় রূপালী ব্যাংকের ও ৮৯২তম কমিশন সভায় লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
রূপালী ব্যাংক: অনুমোদিত বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য, এর কুপন রেট পরিবর্তনশীল এবং এটি রূপান্তরযোগ্য নয়। রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ২ শতাংশ মার্জিন যোগ করে এর কুপন রেট নির্ধারিত হবে। বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১ কোটি টাকা। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে রূপালী ব্যাংক ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী টায়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করবে। এ বন্ডের ট্রাস্টির দায়িত্বে রয়েছে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ড ইস্যুর বিষয়ে অনাপত্তিপত্র পেয়েছিল রূপালী ব্যাংক।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৯৩ পয়সায়।
লংকাবাংলা ফাইন্যান্স: অনুমোদিত বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি রূপান্তর অযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য জিরো কুপন বন্ড। এর ডিসকাউন্ট রেট ৯-১০ শতাংশ। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ডটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিতমূল্য ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ব্যক্তি, করপোরেট ও এসএমই খাতে দেবে। বন্ডটির ট্রাস্টির দায়িত্ব পালন করছে গ্রীন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড ও অ্যারেঞ্জার হিসেবে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ইপিএস হয়েছে ৩৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ৮৬ পয়সা। আর চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ২৮ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৫৯ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৮ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২০ টাকা ২ পয়সায়।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৩০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৩। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৬৪ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।









