চীনে বেকার ভাতার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানকেও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়।
সম্প্রতি এ প্রণোদনা ও ভাতার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে এ খাতে বেড়েছে সরকারের ব্যয়। গত জুনে এ ব্যয় হয়েছে ৫৪৫ কোটি ডলার বা ৩ হাজার ৭২০ কোটি ইউয়ান, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
চীনের মানবসম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে এ ভাতাসংক্রান্ত খাতের তথ্য রয়েছে তাদের হাতে। এর মধ্যে গত জুনে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ। যার আগের বছরের ঠিক একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৬ গুণ বেশি।
তবে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এ সহায়তার আওতায় থাকা উপকারভোগীর সংখ্যাও বেড়েছে ২০ শতাংশ। কিন্তু তাদের সহায়তা দিতে গিয়ে জুনে ঘাটতি দেখা গিয়েছে, ২ হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান। ২০২০ সালের মার্চের পর এত বড় ঘাটতি, এটাই প্রথম। সে সময় ঘাটতির কারণ ছিল চীনের অর্থনীতির ওপর মহামারীর ধাক্কা।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে টানা উদ্বৃত্ত ছিল, কিন্তু ষষ্ঠ মাসে এসে অর্ধ বছরের জন্য ১ হাজার ৫৬০ কোটি ইউয়ানের ঘাটতি দেখা দেয়।
চীন সরকারের নেয়া জিরো কভিড নীতিমালার কারণে দেশের চাকরির বাজারে বেশ মন্দা দেখা দেয়। বিশেষ করে এ বছরের শুরুতে ভাইরাসটির ওমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়লে এটি আরো ত্বরান্বিত হয়। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত বেকারত্ব ভাতার পরিমাণ বেড়েছে। আবার কিছু কোম্পানিকে প্রণোদনা দিতে হয়েছে যেন তারা তাদের কর্মীদের ছাঁটাই না করে। অর্থাৎ কর্মীদের সুরক্ষার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।
নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মহামারী বা লোকসানের মধ্যে থেকেও কর্মীদের বেতন দিয়ে গিয়েছে তাদের আগের বছরের বেকারত্ব বীমার কিছু অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সে ফিরিয়ে দেয়া অর্থের পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। বড় কোম্পানিগুলো ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত পাচ্ছে। অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ অর্থ ফেরত পাচ্ছে।
বছরের প্রথমার্ধে ৫৮ লাখ ৪০ হাজার কোম্পানিকে ৩ হাজার ৩১০ কোটি ইউয়ান অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ ও মহামারীর কারণে বেকারত্ব বীমার তহবিলে টান পড়েছে। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ১৩০ কোটি ইউয়ান। ২০১৮ সালের তুলনায় যা ৪৩ শতাংশ কম। অন্যদিকে, এ সময়ের মধ্যে কলেজ পাস স্নাতকদের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে, যারা সরাসরি যুক্ত হয়েছেন চাকরি খোঁজার প্রতিযোগিতায়। গত জুলাইয়ে তরুণ বেকারের সংখ্যা ছিল চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কাঠামোগত এ সমস্যা সমাধানে বেকারত্ব বীমার তহবিল থেকে অর্থ ব্যবহার করা হবে কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে।









