আগামী বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ব্যয় সক্ষমতা গড়ে ৩ হাজার পাউন্ড কমে যেতে পারে। সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে ব্রিটিশদের জীবনযাত্রার মান এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ থিংক ট্যাংক রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উত্তরসূরির ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জীবনযাপন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকায় দেশটির নাগরিকদের প্রকৃত আয় ১০ শতাংশ কমে যাবে এবং আরো ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।
থিংক ট্যাংকটি জানায়, সামনের দিনগুলোয় ব্রিটিশদের জীবনযাপন ব্যয় আরো ভয়াবহ ও প্রকট হয়ে উঠবে। সরকার থেকে যদি বড় ধরনের সহায়তা না করা হয় তাহলে ২০০০-পরবর্তী সময়ে যে বৈশ্বিক আর্থিক দুর্দশা তৈরি হয়েছিল, এবারের প্রভাব তার দ্বিগুণেরও বেশি হবে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের একজন গবেষক ললিতা ট্রাই বলেন, কোনো দায়িত্বশীল সরকার এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে না। এটি মোকাবেলায় আমূল নীতিগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আমাদের কয়েক লাখ পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজ প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের কারণে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি সমাধানে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না দেয়া হয়, তাহলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরির পাশাপাশি লাখ লাখ শিশুর মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। ইউসিএল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইক্যুইটির পরিচালক অধ্যাপক মাইকেল মারমট সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য নাগরিকদের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে শীত মৌসুমে বরফে আচ্ছাদিত পরিবেশে তা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বেতন-ভাতার তুলনায় পণ্যের দাম ব্যাপক বাড়তে থাকায় নাগরিকদের প্রকৃত আয় আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিম্নমুখী থাকবে বলে জানিয়েছে রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন। এ আয় ২০০৩ সালের পর্যায়ে পৌঁছবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জীবনযাত্রার মান ৫ শতাংশ কমবে এবং ২০২৩-২৪ সালে আরো ৬ শতাংশ কমবে।
থিংক ট্যাংক আরো জানায়, দুই দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ মজুরি মন্দার পাশাপাশি দুর্বল উৎপাদনশীলতা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতার অন্যতম কারণ। বরিস জনসনের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে কর হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন লিজ ট্রাস। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ব্যবহারে জনগণের যে সহায়তার প্রয়োজন সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্যানুযায়ী, ৪০ বছরের মধ্যে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চে। বর্তমানে ১০ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাস অক্টোবরে এটি ১৩ শতাংশের ওপরে উঠে যাবে। গত মাসে ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে থ্রেডনিডেল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি জানিয়েছিল, আগামী বছরের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতির হার ১৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
অন্য এক প্রতিবেদনে থিংক ট্যাংকটি জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে শিশু দারিদ্র্য হার ২৩ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৩১ শতাংশে উন্নীত হবে। অর্থাৎ আরো ১০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হবে।









