চলতি বছরের আগস্টে কেনিয়ায় বাণিজ্যিক গাড়ি তৈরি শুরু করবে মিত্সুবিশি মোটরস। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হওয়া আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ হিসেবে শিগগিরই আফ্রিকায় শুল্ক তুলে নেয়া হবে। তাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করার জন্য আফ্রিকান দেশগুলো এখন নিজেদের অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইসুজু মোটর এবং টয়োটা মোটরও এ অঞ্চলে তাদের উৎপাদন বাড়াবে।

দীর্ঘ ১০ বছরের বিরতির পরে আফ্রিকায় আবারো উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করল মিত্সুবিশি। প্রাথমিকভাবে তারা চাইছে কেনিয়ায় তাদের সহযোগী যেমন মিত্সুবিশি করপোরেশন, তাকাও কাতো এবং জাপানিজ অটোমেকারের প্রেসিডেন্ট ও সিইওদের সঙ্গে নতুন একটি বাজার উন্মুক্ত করতে। ভবিষ্যতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় যানবাহন রফতানির সম্ভাব্যতাও বিশ্লেষণ করবে তারা।

কেনিয়ায় মিত্সুবিশি মোটর তাদের মূলধারার পিকআপ ট্রাক এল২০০ তৈরি করবে। পরে সেটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো দেশের বাজারে ট্রাইটন নামে বিক্রি হবে। এ উৎপাদনের কাজটা করবে অ্যাসোসিয়েটেড ভেহিকল অ্যাসেম্বলার (এভিএ)। সংস্থাটি বৃহত্তম কেনিয়ান অটো বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সিম্বার অধীনে অন্যান্য অটোমেকারের হয়ে যানবাহন তৈরি করছে।

কেনিয়ায় কনসাইনড অটো উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এভিএ। তারাই থাইল্যান্ডের মিত্সুবিশি কারখানা থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে এল২০০ তৈরি করবে। প্রাথমিকভাবে মিত্সুবিশির পরিকল্পনা বছরে ২০০ ইউনিট গাড়ি তৈরির করার। পরে ধীরে ধীরে সংখ্যাটা আরো বাড়ানো হবে। এ গাড়িগুলো পরবর্তী সময়ে শীর্ষ জাপানিজ ট্রেডিং হাউজের মাধ্যমে সিম্বার বিক্রয় নেটওয়ার্কে দিয়ে দেয়া হবে।

২০১১ অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সরে আসার পরে এবারই প্রথম সেখানে আবার উৎপাদনের জন্য প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে অটোমেকার মিত্সুবিশি। বর্তমানে আফ্রিকার বাজারের জন্য মিত্সুবিশি থাইল্যান্ড কারখানায় উৎপাদন করা গাড়ি আমদানি করে থাকে।

কিন্তু কেনিয়ায় আমদানি করা গাড়িতে এখন শুল্ক ও আবগারি শুল্কের পরিমাণ ৫০ শতাংশের উপরে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বলছে, যেসব গাড়ি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে বানানো হয় তার ওপর থেকে কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ শুল্ক কয়েক বছরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, তখন মিত্সুবিশি স্থানীয়ভাবে আরো বেশি যন্ত্রাংশ তৈরির দিকে নজর দেবে। এখান থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় গাড়ি রফতানির সম্ভাবনা নিয়ে ভাববে। ২০২১ সালে আফ্রিকায় ২১ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছিল মিত্সুবিশি যেটা বৈশ্বিক বিক্রির ২ শতাংশ।