আগামী দুই দশকে বৈশ্বিকভাবে এয়ারলাইনসগুলোর ৪১ হাজার ১৭০টি নতুন উড়োজাহাজের চাহিদা থাকবে। এর মধ্যে অর্ধেক উড়োজাহাজ মূলত প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হবে। মোট সরবরাহের ৭৫ শতাংশ হবে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। সম্প্রতি মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আজ শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ফার্নবরো এয়ার শো। অনুষ্ঠানটির ঠিক আগেই আগামী দুই দশকের এভিয়েশন বাজার পরিস্থিতির পূর্বাভাস প্রকাশ করল বোয়িং। এর আগে এক পূর্বাভাসে বোয়িং বলেছিল, আগামী ২০ বছরে ৪৩ হাজার ৬১০টি উড়োজাহাজের সরবরাহ প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে উড়োজাহাজ সরবরাহের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।

রাশিয়ার বাজারকে বহির্ভূত রেখেই বোয়িংয়ের নতুন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর আগে দেশটিতে ১ হাজার ৫৪০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। রুশ এয়ারলাইনসগুলোর কাছে ফের কবে উড়োজাহাজ বিক্রি করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে ২০ বছরের পূর্বাভাস কমালেও আগামী এক দশকে উড়োজাহাজের চাহিদার পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়ার বাজার বাদে ১০ বছরে উড়োজাহাজের চাহিদার পূর্বাভাস ১৯ হাজার ৫৭৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজ চাহিদার পাশাপাশি শিল্প খাতজুড়ে যাত্রী পরিবহনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে বোয়িং। যাত্রী পরিবহন প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া গত বছর কার্গো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৪ শতাংশ। তবে কার্গো প্রবৃদ্ধির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

বোয়িংয়ের বহর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এর আগে ৩ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও সম্প্রতি তা ২ দশমিক ৮ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী দুই দশকে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ সরবরাহের পূর্বাভাস ৭ হাজার ৬২০ থেকে কমে ৭ হাজার ২৩০-এ স্থির করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলোর বহর প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়বে। বলা হচ্ছে, কভিড-১৯ মহামারীর সংকট কাটিয়ে উঠে বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। ২০২৪ সাল নাগাদ মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সংশ্লিষ্ট খাত।