ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি খরাপ্রবণ ও শুষ্ক বছর কাটাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এতে দেশটির কৃষি খাত স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় শস্যের উৎপাদন রেকর্ড কমে যেতে পারে। দেশটির সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপি।

দেশটির কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জোয়ার, তুলা ও ধানসহ দেশটির গ্রীষ্মকালীন শস্য উৎপাদন ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, যা ১৯৮০-৮১ সালের পর সর্বনিম্ন। এছাড়া শীতকালীন শস্য উৎপাদন ৫ শতাংশ কমতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান সংস্থা অ্যাবারেসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ পিটার কলিন্স জানান, একটা বিশাল ব্যবধানের পর এটাই দেশটির সর্বনিম্ন শস্য উৎপাদনের বছর। যদিও চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটিতে বৃষ্টি হয়েছে, তবে তা কৃষকদের জন্য খুব একটা সুফল বয়ে আনেনি। কারণ বৃষ্টিপাত অনেক দেরিতে হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ শস্য উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। দেশটির মোট জিডিপির একটি বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। তবে তিন বছর ধরে দেশটিতে টানা খরা বিরাজ করছে, যা ২০১৯ সালে এতে মারাত্মক আকার ধারণ করে। গত বছর দেশটিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে ১৯০২ সালের পর থেকে সর্বনিম্নে নেমে আসে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তন না হলে গ্রীষ্মকালীন শস্যের সঙ্গে দেশটির শীতকালীন শস্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এতে মূলত মন্দায় পড়বে দেশটির শীতকালীন গম উৎপাদন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম রফতানিকারকের তালিকা থেকে সরে সম্প্রতি কৃষিপণ্যটির আমদানিকারকে পরিণত হয়েছে দেশটি।