মন্দার আশঙ্কা, উচ্চমূল্যস্ফীতিসহ অর্থনীতিতে বিদ্যমান অস্থিরতার ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠতে পারছে না বৈশ্বিক ইস্পাত খাত। কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও ধাতুটির উৎপাদন কমেছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া বিশ্বের অন্য সব অঞ্চলেই উৎপাদনের চিত্র ছিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নিম্নমুখী। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টনে। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৮৩ কোটি ১৩ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশ চীন। গত বছরের আট মাসই দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। ওই বছর জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় দেশটি ইস্পাত উৎপাদন সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদক্ষেপও উৎপাদন কমার পেছনে দায়ী বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। গত বছর দেশটিতে মোট উৎপাদন ২০২১ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে এ বছরের প্রথম মাসে চীনে ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৯৫ লাখ টনে।
চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশটি কভিড-১৯ সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার কারণে অর্থনীতিতে গতি ফিরছে। পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে শিল্প খাত। ফলে চলতি বছর দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। বর্তমানে দেশটি স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইস্পাতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর বিশ্বজুড়ে ১৮১ কোটি ৪০ লাখ টন ইস্পাত ব্যবহার হবে। এর মধ্যে চীন একাই অর্ধেক ব্যবহার করবে।
গত মাসে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক দেশ ভারত ও জাপানে উৎপাদনের চিত্র ছিল নিম্নমুখী। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে এ দুই দেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। জানুয়ারিতে ভারত ১ কোটি ৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে জাপানে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ টন, যা ২০২২ সালের জানুয়ারির তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কম।
অন্যান্য শীর্ষ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৬৫ লাখ টনে নেমেছে। রাশিয়ায় এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ টনে। দক্ষিণ কোরিয়া গত মাসে ৫৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম। জার্মানির উৎপাদন ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমে নেমেছে ২৯ লাখ টনে। ব্রাজিলে উৎপাদন ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২৮ লাখ টনে নেমেছে। তবে ইরান ইস্পাত উৎপাদন ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ টনে।









