চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করলেও শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) গিয়ে তা ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্রেন্ট ক্রুডের বাজার পরিস্থিতিতে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে হলে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ ও জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনে লাগাম টেনে ধরার বিকল্প নেই।
বছরের শুরু থেকেই সংকটে পড়ে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার।
শুরুতে চীনে, পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে অর্থনৈতিক শ্লথতা দেখা দেয়।
এ
পরিস্থিতিতে চাহিদা কমার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমতে শুরু করে।
এ
ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে নেমে এসেছে।
বছরের শুরুর সময়ের থেকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষক ডামিয়েন করভালিন জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৫৩ ডলারে।
তবে এর পর থেকে বাড়তে শুরু করবে জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম।
পরবর্তী প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা ব্যারেলপ্রতি ৫৭ ডলারে উন্নীত হতে পারে।
তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম আরো বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর
বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৬৫ ডলারে।
তবে ব্রেন্ট ক্রুডের এ মূল্যবৃদ্ধির পুরোটাই নির্ভর করবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর।
গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শেষ প্রান্তিকে ৬৫ ডলার ব্যারেল তুলতে চীনে ব্রেন্ট ক্রুডের চাহিদা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
আর
এতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নভেল করোনাভাইরাস।
ভাইরাসের বিস্তার ও আতঙ্ক দূর করে চীনসহ বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি ব্রেন্ট ক্রুডের বাজার পরিস্থিতি চাঙ্গা করবে।
অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি তেলের বাজার ভারসাম্য ফেরাতে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বর্তমানের তুলনায় আরো কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব।
গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, রাশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে আগামী মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে জ্বালানি তেলের বাজারে ভারসাম্য ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এতে বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারে উন্নীত করার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম অবলম্বনে









