রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল। তবে সম্প্রতি বেশির ভাগ পণ্যেরই বাজারদর কমতে শুরু করেছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়া থেকে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই শিথিল হয়েছে। এছাড়া বিকল্প বাজার থেকেও সরবরাহ বাড়ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

রেফিনিটিভ/কোর কমোডিটি ইনডেক্সের ১৯টি পণ্যের বাজার নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে নিক্কেই। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ যুদ্ধের আগের সময়ের সঙ্গে এসব পণ্যের বর্তমান বাজারদর তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১৪টি পণ্যেরই দাম কমেছে।

তথ্য বলছে, গত এক বছরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ চেইনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। আর্থিক খাতের তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের মতে, গত বছর জার্মানি সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার কাছ থেকে অনেক কম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনেছে। আমদানি কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিপরীতে চীন ও ভারতের রুশ জ্বালানি তেল আমদানি আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে চীনের আমদানি ৩০ শতাংশ ও ভারতের সাত গুণ বেড়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য প্রবাহেও গত বছর নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ইউরোপিয়ান আমদানিকারকরা রাশিয়ান সরবরাহের বিকল্প নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করেছে। গত বছরের আগস্টে জ্বালানিটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় আরোহণ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দাম প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকরা জানান, এই শীতে ইউরোপে যে পরিমাণ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা বাস্তবে পরিণত হয়নি। শীতের তীব্রতা কম থাকায় এবার প্রত্যাশার চেয়ে জ্বালানি চাহিদা কম ছিল। এছাড়া বিকল্প উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ আমদানি করায় মজুদও ছিল পরিপূর্ণ। যে কারণে দাম বাড়ার পরিবর্তে কমেছে।

এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যের নিম্নমুখী দামের ফলে রাশিয়ার জন্য যুদ্ধের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জানুয়ারিতে দেশটির তেল ও গ্যাস রফতানিতে আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কমেছে। তবে আয় কমা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীর পেছনে দেশটি ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাজেট ঘাটতিতে পড়েছে দেশটি।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন ‍বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের বার এবং নিকেলের বাজারে দেশটি যথাক্রমে ৪, ৫ ও ৭ শতাংশ হিস্যা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। শক্তিশালী চাহিদার কারণে বাণিজ্য প্রবাহও ছিল সচল।

গত বছরের মার্চে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে ইতিহাসের সর্বোেচ্চ পৌঁছেছিল। কিন্তু এর পর থেকে এখন পর্যন্ত গড়ে দাম কমেছে ১০-৩০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করছে। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় ধাতুটির উৎপাদন বাড়তে শুরু করায় এমন সিদ্ধান্ত সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছে বাইডেন প্রশাসন।