পশ্চিমা দেশগুলো গত ডিসেম্বরে সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পরও জানুয়ারিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তেল রফতানি করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। 

আইইএ বলছে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আগের মাসের তুলনায় প্রতিদিন তিন লাখ ব্যারেল বেড়েছে। দৈনিক রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ব্যারেল। অন্যদিকে পেট্রল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য রফতানি স্থিতিশীল ছিল। 

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সময় জি৭, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের প্রাইস ক্যাপ বা সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বেঁধে দেয়। এর পরও রফতানি অপরিবর্তিত ছিল। রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল। 

নতুন প্রাইস ক্যাপের আওতায় রাশিয়ান ডিজেল, জেট জ্বালানি এবং গ্যাসোলিনের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ ডলার বেঁধে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য পরিশোধিত পণ্যে ব্যারেলপ্রতি ৪৫ ডলার প্রাইস ক্যাপ দেয়া হয়েছে। এর বেশি দামে রফতানীকৃত জ্বালানি তেল পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর বীমা ও শিপিং পরিষেবা পাবে না।

ইউক্রেন সংঘাত শুরুর আগে রাশিয়া ইউরোপে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করত, জানুয়ারিতে তার চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম রফতানি হয়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল। অন্যদিকে চীনে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২১ লাখ ব্যারেলে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলছে, প্রাইস ক্যাপ ম্যাকানিজমের কারণে রাশিয়া জ্বালানি তেল বিক্রির রুট বদলাচ্ছে। এক্ষেত্রে ভারত ও চীন দেশটির শীর্ষ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। 

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া সফলভাবেই জ্বালানি তেল বিক্রির রুট বদলাতে সক্ষম হয়েছে। জি৭-ভুক্ত দেশগুলোর দেয়া প্রাইস ক্যাপ দেশটিকে নতুন বাজার খুঁজে পেতে সহায়তা করছে।

আইইএর জ্বালানি তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের প্রধান টোরিল বোসোনি সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে। ডিসেম্বরে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ দেয়া হয়। ফলে আগে যে পরিমাণ তেল ইউরোপের বাজারে বিক্রি হতো, তা এশিয়ার নতুন বাজারে বিক্রি করছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেরিটাইম ব্যবহার করছে দেশটি। প্রাইস ক্যাপ রাশিয়াকে নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় গত মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক চার লাখ ব্যারেল কমেছে। কিন্তু এতে ভারসাম্য এনেছে চীন, ভারত ও তুরস্ক। এসব দেশ রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল ক্রয় করেছে। তবে এখনো কিছু জ্বালানি তেল ইউরোপের বাজারে ঢুকছে। ড্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব তেল যাচ্ছে হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়ায়। দেশ দুটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেয়নি।