ভাঙা চালের ওপর থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া কিংবা সাদা চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ভাবছে না ভারত। বরং এসব বিধিনিষেধে সময়সীমা আরো বাড়ানো হতে পারে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই রফতানি সীমিত রাখার সিদ্ধান্তে অটল দেশটি। খবর রয়টার্স।
ভারতের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে চালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ নিয়েও সংকটের মুখে পড়তে পারে আমদানিকারক দেশগুলো। এতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি আরো প্রকট হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটি ভাঙা চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি অন্যান্য চালের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ রফতানি শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রধান আবাদি অঞ্চলগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির চাল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শস্যটির রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়।
নয়াদিল্লি রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রেতারা। তাদের বেশি দাম দিয়ে শস্যটি কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান রফতানি বাজারগুলোয় চালের দাম বাড়ছে লাফিয়ে।
ভারতের সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০ শতাংশ শুল্কারোপের পরও চাল রফতানি গতি হারায়নি। তাই আমরা মনে করেছি শুল্ক কমানোর বা প্রত্যাহারের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এখনই ভাঙা চাল রফতানি চালুর কথা ভাবছি না। চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান এটি আমদানির মাধ্যমে ইথানল কিংবা পশুখাদ্য উৎপাদনের কথা ভাবছে। আমরা এর পরিবর্তে স্থানীয় বাজারে শস্যটির সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চাই না। গমের মজুদ সীমিত করলেও চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে এ মজুদ থেকেই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হব।’
গত বছর ভারতের চাল রফতানি এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টনে। শীর্ষ রফতানিকারক থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত রফতানির চেয়ে বেশি রফতানি করেছে ভারত। ২০২১ সালে চীন ছিল ভারতের শীর্ষ ভাঙা চাল ক্রেতা। ওই বছর দেশটি ভারতের বাজার থেকে ১১ লাখ টন ভাঙা চাল আমদানি করে।
এ বছর রফতানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে আরো কমানোর আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এল নিনো আবহাওয়ায় এবারো অতিবৃষ্টির উদ্বেগ রয়েছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা শিগগিরই কাটছে না।
ভারতের কৃষকরা সাধারণত জুন-জুলাইয়ে ধান আবাদ করে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। কিন্তু কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও শুষ্ক আবহাওয়ায় গত বছর উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দেয়।
অন্য এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাল রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পাশাপাশি আমরা শস্যটির পর্যাপ্ত মজুদও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আগামী মাসগুলোতেও রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে ভারত।’









