জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের হার ৪৮ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দুটি বিষয়ের মিশ্র প্রতিবেদন অঞ্চলটির শ্রমবাজারের শীতল অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান অধিদপ্তর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যেখানে গবেষকরা এর হার ৩ দশমিক ৫-এ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালের আগস্টের পর এটি সর্বনিম্ন হার। এরপর জুলাইয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ ৪০ হাজার ৯০০-এ নেমেছে। যেখানে ২৫ হাজার বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় বেকারদের সংখ্যা ২০ হাজার ২০০ জনে নেমে এসেছে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে অংশগ্রহণের হার ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। মার্কিন ডলারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য থাকায় পরিসংখ্যানে এ ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়াবে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান বোর্ডের শ্রম বিভাগের প্রধান বজর্ন জার্ভিস জানান, শীতকালে স্কুল ছুটি থাকা এবং কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে যখন কর্মঘণ্টা কমে এসেছিল সে সময়ের সঙ্গে জুলাই প্রতিবেদন মিলে যায়। জার্ভিস বলেন, কভিড-১৯ মহামারী ও স্কুল ছুটির সময় নিয়োগ কার্যক্রম শিথিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। সেখানে স্বল্প কর্মসংস্থান ও কম জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে এসেছিল। ১৯৮২ সালের পর যা সর্বনিম্ন। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান মজুরির সঙ্গে এ বিষয়গুলো সম্পর্কিত।

সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে মজুরির হার বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারের চেয়ে পিছিয়ে। তারপরে এটি আট বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং বেসরকারি খাতে তা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবসায়িক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত শ্রমিক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই সঙ্গে তারা কর্মীদের ধরে রাখতে অর্থ প্রদানের জন্যও প্রস্তুত।

রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া জানায়, যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে তারা সবাই বেতন ও বোনাস বাড়ানোর বিষয়ে জানিয়েছে। পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে করহার ১৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে সুদের হার ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হবে বলে জানা গিয়েছে।

বিআইএস অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ম্যাক্রোইকোনমিক ফোরকাস্টিংয়ের প্রধান শন ল্যাংকেক বলেন, শ্রম চাহিদা সূচক এখনো শক্তিশালী। ফলে বেকারত্বের হার তেমন বাড়ার সুযোগ নেই।