বায়োডিজেল নীতি ও এল নিনো আবহাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ভোজ্যতেল বাজার আরো চাপে পড়তে পারে। শিল্প কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা এর প্রভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে পাম তেলের দাম আরো বাড়বে। খবর রয়টার্স।
স্প্যানিশ ভাষায় এল নিনোর অর্থ লিটল বয়। মধ্য ও পূর্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বা গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। এর সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উচ্চ বায়ুচাপ এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নিম্ন বায়ুচাপ জড়িত।
কুয়ালালামপুরে একটি পাম তেলবিষয়ক সম্মেলনে শীর্ষ শিল্প বিশ্লেষক টমাস মিয়েলকে বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাজার ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে এক বছরের জন্য কঠিন হতে চলেছে। কারণ ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী বায়োডিজেল উৎপাদন প্রায় ৪৫ লাখ টন বাড়তে পারে।’
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাম তেল উৎপাদন করে ইন্দোনেশিয়া। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটি বায়োডিজেলে ৩০-৩৫ শতাংশ পাম তেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।
হ্যামবার্গভিত্তিক গবেষণা সংস্থা অয়েল ওয়ার্ল্ডের প্রধান মিয়েলকে আরো বলেন, ‘ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সীমিত পরিসরে সরবরাহ বাড়ায় এ বছরের জুলাই-ডিসেম্বর এবং আগামী বছরের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত একটি বৈশ্বিক উৎপাদন ঘাটতি থাকবে।’
মিয়েলকের ধারণা, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মালয়েশিয়ান রিফাইন্ড ব্লিচড ডিওডোরাইজড (আরবিডি) পাম তেলের দাম আরো ১৬ শতাংশ বাড়বে। এতে প্রতি টন তেলের দাম ১ হাজার ১৫০ ডলারে পৌঁছবে।
তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার পাম তেল উৎপাদন ছয় লাখ টন বেড়ে ১ কোটি ৯০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন ১২ লাখ টন বেড়ে ৪ কোটি ৭৭ লাখ টন হতে দেখা গেছে।’
ভারতীয় ভোগ্যপণ্য কোম্পানি গোদরেজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক দোরাব মিস্ত্রি আশা করছেন, এখন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি টন মালয়েশিয়ান পাম অয়েল ৪-৫ হাজার রিঙ্গিতের (১ হাজার ১০৬ ডলার) মধ্যে বিক্রি হবে। অন্যদিকে ৮ মার্চ বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে চুক্তিতে প্রতি টন পাম তেল ২৪ রিঙ্গিত কমে ৪ হাজার ১৮১ রিঙ্গিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার এফজিভি হোল্ডিংস, ইউনাইটেড প্ল্যানটেশনসসহ শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এল নিনো আবহাওয়া বিরাজ করবে। এতে ২০২৪ সালে পাম অয়েল উৎপাদন কমার সম্ভাবনা রয়েছে।। এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় কম বৃষ্টিপাত দেখা দেয়। ফলে পাম ফলন কমে এবং বিশ্বব্যাপী পাম অয়েলের দামও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে লা নিনার প্রভাবে আর্দ্র আবহাওয়া ও বন্যার কবলে দেশ দুটির উৎপাদন অনেক কমেছে।
ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের (জিএপিকেআই) বাণিজ্য ও প্রচার বিভাগের প্রধান ফাদিল হাসান আশঙ্কা করছেন, বায়োডিজেল ম্যান্ডেটের (সরকারি আদেশ) কারণে চলতি বছর এমনকি আগামী বছরও পাম তেলের রফতানি কমতে পারে। জিএপিকেআইর প্রধান বলেন, ‘আগে পাম তেল ইন্দোনেশিয়ার রফতানিমুখী পণ্য ছিল। কিন্তু এখন এটির বৈদেশিক বাণিজ্য কমছে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়ছে।’
কমোডিটিস কনসালট্যান্সি এলএমসি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জেমস ফ্রাই সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানির (তেল, গ্যাস) মূল্য সংশোধন করতে হবে। এতে বায়োডিজেলর চাহিদা কমবে এবং পাম তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।









