আগামী পাঁচ বছরে জাকার্তা ও ব্যাংককে ৫০টিরও বেশি বিলাসবহুল হোটেল খোলা হবে। এটি পর্যটন খাতের শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় শহর দুটি থেকে নভেল করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ফলে এ পুনরুদ্ধার আরো বেশি সহজতর হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
গত ৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্মকর্তাদের বাসভবনের পাশে নিজেদের লাক্সারি ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপে নতুন জায়গা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হায়াত হোটেল। পার্ক হায়াত জাকার্তা খোলা হয়েছে এমএনসি গ্রুপের হেডকোয়ার্টারের জায়গায়। ৩৭ তলা ভবনের ওপরের ১৭ তলাজুড়েই থাকবে হোটেলটি। এমএনসি ৩ লাখ কোটি রুপিয়াহ প্রজেক্টটিতে বিনিয়োগ করেছে এবং প্রত্যাশা করছে, আগামী সাত-আট বছরে এর পুরোটা উঠে আসবে।
নিক্কেই এশিয়ার একটি গবেষণা বলছে, জাকার্তায় ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩টি চার তারকা মানের এবং উচ্চ পর্যায়ের হোটেল খোলা হবে। জাপানের হোটেল ওকুরাও পরিকল্পনা করছে শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় ২০২৫ সালের মধ্যে একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল চালু করার। এরই মধ্যে হংকংকেন্দ্রিক লংহাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টও প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ায় কাজ শুরু করেছে।
ব্যাংককে আরো বেশি মাত্রায় নতুন নতুন হোটেল চালু করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির তফোতেলনিউজের তথ্য অনুসারে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২৮টি চার তারকা মানের হোটেল এবং ১৩টি পাঁচ তারকা মানের হোটেল খোলা হবে থাইল্যান্ডের রাজধানীতে।
গত জানুয়ারি থেকে মধ্য আগস্টে থাইল্যান্ড সফর করেছেন ৩৭ লাখ ৮০ হাজার পর্যটক। এর ফলে দেশটির আয় হয়েছে ১৭ হাজার ৬০০ কোটি বাথ। ২০২৩ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল কোম্পানি ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংককে কার্যক্রম শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ রিত্জ-কার্লটন ব্র্যান্ডের অধীনে। এটা এখন ব্যংককের সবচেয়ে প্রত্যাশিত কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া।
থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় হোটেল খুলতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড হোটেল, ২০২১ সালের শেষের দিকে সাউদার্ন রিসোর্ট ডেস্টিনেশন হুয়া হিনের পরে এ নিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
যেহেতু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা বেড়েছে, তাই বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে জাকার্তা ও ব্যাংকক। ২০২১ সালে প্রকৃত মোট দেশজ পণ্যে নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে অথবা তার পরে এ প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ বা আরো বেশি হবে।
এমএনসির কর্মকর্তারা জানান, হোটেল অপারেটরদের এখন মূল লক্ষ্য ব্যবসায়িক ভ্রমণের দিকে। নিজেদের কোম্পানির খরচে যেসব ব্যবসায়ী অতিথিরা হোটেলের ভাড়া পরিশোধ করেন তারা সাধারণত পর্যটকদের তুলনায় বেশি টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হন, তাছাড়া তারা বেশির ভাগ সময় উচ্চমানের হোটেল খোঁজেন মানসিক শান্তির জন্য।
এ শিল্পে এখন জাকার্তা ও ব্যাংকক বেশ অগ্রগতির পথে রয়েছে। মিটিং, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ, কনফারেন্স এবং এক্সিবিশন অনেক বেশি হচ্ছে এ দুই স্থানে।








