চলতি বিপণন মৌসুমের পাঁচ মাসে ভারতের মিলগুলো প্রায় ৩৮ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে। এ সময়ের মধ্যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি চিনি কিনেছে বাংলাদেশ। অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে চিনির বিপণন মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরে, শেষ হয় সেপ্টেম্বরে। অক্টোবর থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মিলগুলো রফতানি করেছে ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৪ টন চিনি। চলতি মৌসুমে ৬০ লাখ টন রফতানির অনুমতি রয়েছে। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা রফতানি কোটা আরো বাড়ানোর ‍দাবি জানিয়েছেন।

মৌসুমের এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ১১ হাজার টন আমদানির মধ্য দিয়ে ভারতীয় চিনির ক্রেতা দেশগুলোর শীর্ষে বাংলাদেশ। এর পরই সোমালিয়া, জিবুতি, সুদান, ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান।

অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ১ লাখ ২৭ হাজার টন চিনি লোডিংয়ের অপেক্ষায় আছে। ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন সরবরাহ করা হয়েছে পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয়।

ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ। ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে দেশটি ১ কোটি ১২ লাখ টন চিনি রফতানি করে। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় ও চাহিদা নিরূপণের ভিত্তিতেই রফতানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈরী আবহাওয়ায় ভারতের প্রধান আবাদি অঞ্চলগুলোয় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপক্ব হচ্ছে আখ। বিপরীতে কমছে ওজন। ফলে দেশটিতে প্রাক্কলনের চেয়ে কম চিনি উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির সরবরাহের টান পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক। উৎপাদন কমে গেলে দেশটির সরকার অতিরিক্ত চিনি রফতানির অনুমোদন বাতিল করতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড রফতানি বাড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন জানুয়ারিতে জানায়, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ৪০ থেকে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৫৮ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন কমবে। তবে নতুন পূর্বাভাসে উৎপাদন আরো কমার কথা বলা হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে আবাদকৃত আখ আগেই পরিপক্ব হওয়ায় উৎপাদন পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

আলভীন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ট্রেডিং ইন্টেলিজেন্সের প্রধান মাউরো ভার্জিনো বলেন, ‘এ মৌসুমে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। উৎপাদনে এমন নিম্নমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক চিনি সরবরাহের জন্য উদ্বেগজনক।’

অন্য একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজও উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ কোটি ২৪ লাখ টন নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, এ মৌসুমে মহারাষ্ট্রে চিনি উৎপাদন কমে ১ কোটি ১৩ লাখ টনে ঠেকবে।

সরকারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্র ও প্রতিবেশী কর্ণাটকের চিনিকলগুলোয় এরই মধ্যে আখ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে অন্তত ১৭টি মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরো দুই ডজন চিনিকলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।