বৈরী আবহাওয়ায় ভারতের প্রধান আবাদি অঞ্চলগুলোয় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিপক্ব হচ্ছে আখ। বিপরীতে কমছে ওজন। ফলে দেশটিতে প্রাক্কলনের চেয়ে কম চিনি উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির সরবরাহের টান পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক। উৎপাদন কমে গেলে দেশটির সরকার অতিরিক্ত চিনি রফতানির অনুমোদন বাতিল করতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড রফতানি বাড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন গত মাসে জানিয়েছিল, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ৪০ থেকে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৫৮ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন কমবে।

তবে নতুন পূর্বাভাসে উৎপাদন আরো কমার কথা বলা হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে আবাদকৃত আখ আগেই পরিপক্ব হওয়ায় উৎপাদন পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

আলভীন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ট্রেডিং ইন্টেলিজেন্সের প্রধান মাউরো ভার্জিনো বলেন, ‘এ মৌসুমে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। উৎপাদনে এমন নিম্নমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক চিনি সরবরাহের জন্য উদ্বেগজনক।’

অন্য একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজও উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ কোটি ২৪ লাখ টন নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, এ মৌসুমে মহারাষ্ট্রে চিনি উৎপাদন কমে ১ কোটি ১৩ লাখ টনে ঠেকবে।

সরকারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্র ও প্রতিবেশী কর্ণাটকের চিনিকলগুলোয় এরই মধ্যে আখ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে অন্তত ১৭টি মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরো দুই ডজন চিনিকলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘বারবার উৎপাদন পূর্বাভাস কমানোর কারণে রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত রফতানির সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।’

ভারত স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে চিনি রফতানি সীমিত করেছে। এ মৌসুমে রফতানির অনুমতি রয়েছে ৬১ লাখ টনের। অথচ গত মৌসুমে দেশটি রেকর্ড ১ কোটি ১০ লাখ টন চিনি রফতানি করেছিল। দেশটি মূলত ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, সুদান, সোমালিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিনি রফতানি করে।

ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত ভারতে ২ কোটি ৫৪ লাখ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। গত মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ ১০ হাজার টন চিনির ঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন বছরের উদ্বৃত্তের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পুল সম্প্রতি এ আশঙ্কার কথা জানায়। উৎপাদন মৌসুম নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির করা প্রাথমিক পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে চিনি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।