চলতি বছরের জুনে জাপানে পণ্যের পাইকারি মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এজন্য আমদানি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখিতাকে দায়ী করেছে ব্যাংক অব জাপান। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় মূল্যের পতন এতে ভূমিকা পালন করেছে। খবর কিয়োদো নিউজ।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ কাঁচামাল ও খাদ্যের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এর জেরে ছয় মাসে জাপানি সংস্থাগুলোর মধ্যে পণ্যের বাণিজ্য মূল্য ৯ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

এ নিয়ে টানা ১৬ মাসের মতো জাপানে পাইকারি পণ্যের মূল্য অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান গত দুই দশকের সর্বনিম্নে। এতে দেশটিতে পণ্যের আমদানি মূল্য আকাশচুম্বী। ইয়েনের দরে আমদানি মূল্য ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রফতানি মূল্য বেড়েছে মাত্র ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।

পেট্রোলিয়াম ও কয়লাজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্যের মূল্য বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া কাঠজাত পণ্যের মূল্য ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জ্বালানির মূল্যও। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মূল্য বেড়েছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ।

জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবেলা করতে পাইকারদের ভর্তুকি দিচ্ছে জাপান সরকার। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ জাপান। ফলে ভূরাজনৈতিক সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশটিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।          

চড়া আমদানি মূল্যের চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে জাপানের উৎপাদন ও উৎপাদনবহির্ভূত খাতগুলোর। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপানের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রধান উৎপাদকদের উৎপাদন ব্যয় গত চার দশকের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাগুলো এ ব্যয়ভার সামলাতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে। ফলে এর চাপ এসেছে পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে জাপানিদের।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে জাপানের ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ শতাংশ।