অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ নিরসনে প্রয়োজনে উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই সৌদি আরব ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর জরুরি বৈঠক ডেকেছে। এর জের ধরে জ্বালানি পণ্যটির দামে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা দিলেও গতকাল ফের দরপতন ঘটেছে। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।

বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিক টুইটে বলেন, প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি ব্যারেল সম্মিলিত উত্তোলন কমানো হতে পারে। এটা নজিরবিহীন, যা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহের ১০-১৫ শতাংশ। মূল্যযুদ্ধ নিরসনে প্রয়োজনে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত রয়েছি আমি। 

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প এ টুইট করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমাবে না বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের এ টুইটের পর পরই সৌদি আরব ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ইরাকের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জরুরি বৈঠক আহ্বানকে স্বাগত জানানো হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এসব উদ্যোগ বৃহস্পতিবার দিন শেষে জ্বালানি তেলের বাজারকে চাঙ্গা করেছিল। তবে গতকাল ফের দরপতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ২৮ ডলার ৯৭ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার জ্বালানি পণ্যটির দাম ২১ শতাংশ বেড়েছিল। 

অন্যদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ ডলার ২৮ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কম। আগের দিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ। 

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক গতকাল বলেন, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় বাড়তি জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই রাশিয়ার। 

মার্চের শুরুতে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে যে মূল্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এখন ট্রাম্পের উদ্যোগে সেটা নিরসনের পথে রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে গোল্ডম্যান স্যাকসের এক নোটে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জরুরি বৈঠক আহ্বান, রাশিয়ার উত্তোলন না বাড়ানোর ইঙ্গিত চলমান মূল্যযুদ্ধ নিরসনের পথ দেখাচ্ছে। আর এর পেছনে কাজ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর এ সময়ে অর্থনৈতিক মন্দার আঘাত কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।