বৈশ্বিক বাজারে ভারতের রফতানির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাস উদযাপনের সামগ্রী এবং টি-শার্টের শীর্ষ পাঁচ রফতানিকারকের মধ্যেও রয়েছে দেশটি। সামগ্রিক বিবেচনায় বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনে দেশটির বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে এশিয়ায় চীনের জায়গা দখল করবে ভারত।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত মাসে দেশটির সমুদ্রপথে ২ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের চালান এসেছে। এতে বিভিন্ন উৎসবের পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্যও রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ হার প্রায় তিন গুণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর চীনের কভিড জিরো নীতি এবং ক্রমবর্ধমান শ্রম ব্যয়ের কারণে ক্রেতারা তাদের উৎসগুলোয় বৈচিত্র্য এনেছে। আর এ কারণে বৈশ্বিক রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে ফিলিপাইনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে ভারত।
রফতানি বৃদ্ধির কারণে অনেকেই সুবিধা পেয়েছেন। তাদেরই একজন অমিত মালহোত্রা। তার এশিয়ান হ্যান্ডিক্রাফটস প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানটি ওয়াল্ট ডিজনি, লন্ডনের হ্যারডস, টার্গেট এবং ডিলার্ডস ইনকরপোরেশনের মতো বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলোয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করে থাকে।
এশিয়ান হ্যান্ডিক্রাফটসের পরিচালক অমিত মালহোত্রা বলেন, এক বছর আগের তুলনায় তার পণ্যের অর্ডার ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণে তিনি উৎপাদনক্ষমতাও বাড়িয়েছেন। চলতি বছর আমরা ৩২ লাখ ইউনিট সামগ্রী সরবরাহ করেছি, যা গত বছর ছিল ২৫ লাখ ইউনিট। এ রফতানি বৃদ্ধি শুধু ক্রিসমাস পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্যের অর্ডার বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে কম ব্যয়ে শ্রম নিবিড় খাতের মতো পোশাক, হস্তশিল্প খাত এবং নন-ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও রফতানি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।
গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের পণ্য রফতানি ৪২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর এপ্রিলে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এরই মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি এক উপাত্তে বলা হয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ক্রিসমাস পণ্যসামগ্রী রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি হয়েছে।









