একদিনের ধর্মঘট পালন করেছেন লুফথানসার পাইলটরা। গতকালের এ ধর্মঘটের কারণে প্রায় ৮০০ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে জার্মান রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির টিকিট কাটা ১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ বাতিল হয়ে গিয়েছে। খবর রয়টার্স।
এয়ারলাইনসটি জানিয়েছে, শুক্রবার ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ থেকে ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ধর্মঘটের প্রভাব কমানোর জন্য সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
সর্বশেষ মজুরি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শ্রমিক ইউনিয়ন ভেরিনিগুং ককপিট (ভিসি) লুফথানসার পাঁচ হাজারেরও বেশি পাইলটকে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছিল। ধর্মঘট ও কর্মী ঘাটতির কারণে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বিলম্ব নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়। ফলে বড় বিমানবন্দরগুলোয় যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং এটি কভিডজনিত বিধিনিষেধ শেষে পুনরায় ভ্রমণে আগ্রহী লোকদের হতাশ করেছে।
ভিসি ইউনিয়ন চলতি বছর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয় মূল্যস্ফীতিজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি নতুন পাইলটদের আরো ভালো মজুরি কাঠামোর দাবি জানিয়েছে।
লুফথানসা জানিয়েছে, ভিসির দাবি পূরণ করা হলে আগামী দুই বছরে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ৪০ শতাংশ বা ৯০ কোটি ইউরো বাড়িয়ে দেবে। এ অবস্থায় এয়ারলাইনসটি ১৮ মাসের মেয়াদে দুই ধাপে প্রতি মাসে মোট ৯০০ ইউরো মূল বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে নতুন পাইলটদের ১৮ শতাংশ এবং জ্যেষ্ঠদের ৫ শতাংশ বেতন বাড়বে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি।
জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির পটভূমিতে ভিসি এ বেতন বাড়ানোর দাবি জানায়। আগস্টে জার্মান মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে আন্দেয়া বুখলোহ-অ্যাডলার নামের একজন যাত্রী বলেন, আমি মনে করি না যে ধর্মঘট কোনো সমাধান। প্রধান ভ্রমণ মৌসুমে খুব সংক্ষিপ্ত নোটিসে এভাবে ফ্লাইট বাতিল করায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তাছাড়া পাইলটরা নিশ্চয় কম উপার্জনকারী নন। তারা নিশ্চয়ই জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে প্রতিদিন কাজ করা শ্রমিকদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হননি।









