সিঙ্গাপুরে দ্রব্যমূল্য অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জুনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে কোর মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বাজারে অস্থিতিশীলতার মধ্যে থাকা জ্বালানি তেল ও খাদ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা এ মূল্যস্ফীতি দেশটির ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে কোর মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। খবর স্ট্রেইট টাইমস।

জুনে মূল্যস্ফীতির হার ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের (ইউওবি) পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর আগে ইউওবির পূর্বাভাস বলছিল, জুনে সিঙ্গাপুরের মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতির হার ব্লুমবার্গের পূর্বাভাসের সীমা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল।

এছাড়া দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচকও অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জুনে ভোক্তা মূল্যসূচক ৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ ইউওবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, গত মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশে।

সম্প্রতি মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্য বলছে, জুনে দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর জন্য খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া জুনে পরিষেবা মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ছুটির মৌসুমে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও উড়োজাহাজের টিকিটও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর জের ধরেই বেড়েছে পরিষেবা মূল্যস্ফীতির হার।

চলতি বছরের জুনে খুচরা ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। মে মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই মাসে ওষুধসহ স্বাস্থ্য পণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত ছিল।

পাশাপাশি দাম বেশি ছিল পোশাকেরও। এরই ধারাবাহিকতায় খুচরা ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির হারও বেশি ছিল।

এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সিঙ্গাপুরেও। জুনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য ২০ শতাংশ বেড়েছে।

জুনে দেশটিতে বাসস্থান মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এর জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। গাড়িসহ পেট্রলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। সামনের মাসগুলোয়ও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এমএএস ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংস্থা দুটি জানায়, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চে থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে। এদিকে সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারেও প্রতিকূলতা বিদ্যমান।