চলতি বছরের প্রথমার্ধে ফক্সওয়াগন গ্রুপের গাড়ি বিক্রি নিম্নমুখী হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক পঞ্চমাংশ কমেছে। বিশেষ করে ইউরোপে উল্লম্ব পতন সংস্থাটির গাড়ি বিক্রি কমাতে ভূমিকা রেখেছে।

সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ফক্সওয়াগনের মোট গাড়ি বিক্রি কমলেও চীনে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বিক্রি বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বজুড়ে গাড়ির সরবরাহ ২২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকা মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে এ কমার হার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরে ফক্সওয়াগন মার্চে রাশিয়ায় বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করে। সম্প্রতি সংস্থাটি বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। একটি ট্রেড ইউনিয়ন এ মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ফক্সওয়াগনের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের গাড়ি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো থেকে শুরু করে মূল্যস্ফীতি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এ বাধা বিশ্বজুড়ে অটোমোবাইল শিল্পের সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যদিও রাশিয়ার বিক্রি ২০২১ সালে ফক্সওয়াগনের মোট গাড়ি বিক্রির মাত্র ২ শতাংশ ছিল।

এপ্রিল-জুন সময়ে পশ্চিম ইউরোপে ফক্সওয়াগনের বিক্রি ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। এ সময়ে চীন ও আমেরিকায় কমেছে ১৬-১৮ শতাংশ। যদিও এ সময়ে সংস্থাটির ইভির সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ বেড়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ১০০ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা সংস্থাটির মোট বিক্রি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। পাশাপাশি ইভি বিক্রিতে বড় অবদান ছিল চীনের।

যদিও ইউরোপ ঐতিহ্যগতভাবে ফক্সওয়াগনের শক্তিশালী ইভির বাজার। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ অঞ্চলে ইভি বিক্রি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। যখন চীনে সংস্থাটির ইভি বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজারে ফক্সওয়াগনের ইভি বিক্রি গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে ৬৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে পৌঁছেছে। যদিও সংস্থাটি চীনের স্থানীয় প্রতিযোগী ও টেসলার থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। মে মাসে সংস্থাটির বিক্রীত গাড়ির সংখ্যা টেসলার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ এবং বিওয়াইডির চেয়ে ১০ গুণ কম।