ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকে অস্থিতিশীল রয়েছে জ্বালানির বাজার। কয়েক মাস ধরে নিম্নমুখী ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার। এ অবস্থায় আমদানিতে আরো বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে জাপানকে। ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় অর্ধবছরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে দেশটির আমদানি-রফতানির ব্যবধান। খবর কিয়েদো নিউজ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে জাপানের আমদানি ব্যয় ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ইয়েনে (৩৯ হাজার কোটি ডলার) পৌঁছেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে রফতানি ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার কোটি ইয়েনে (৩৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার)। এ সময়ে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি ইয়েনে (৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে দুর্বল চাহিদাও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে জুনে জাপানের আমদানি ব্যয় ৪৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। যেখানে একই সময়ে রফতানি বাড়ার হার ১৯ শতাংশ। ফলে গত মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি ইয়েনে (১ হাজার কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে, ২০১৪ সালের পরে যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা একাদশ মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

দেশভিত্তিক হিসাবে গত মাসে চীন থেকে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে রফতানি বেড়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে দেশটিতে রফতানি বাড়ার হার ১৫ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাপানের আমদানি ১২৫ শতাংশ বেড়েছে। দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ায় আমদানিতে এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

আইটেম অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে লোহা ও ইস্পাতের চালান এবং অস্ট্রেলিয়ায় ডিজেলসহ খনিজ জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বছরের প্রথমার্ধে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কয়লার আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আমরা মনে করি, সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জানুয়ারি-জুন সময়ে সৌদি আরবসহ অন্য দেশ থেকে পেট্রোলিয়াম আমদানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। এ সময়ে কয়লা তিনগুণেরও বেশি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, আমদানি ও রফতানি উভয়েরই মূল্য উচ্চগতিতে বাড়ছে। তবে সেগুলো বেশির ভাগই উচ্চমূল্য ও ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার পতনের কারণে হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে মন্দার ঝুঁকিও তীব্রতর হচ্ছে।

এর আগে ছয় মাসে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতির রেকর্ড ছিল ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে ৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইয়েন। ২০১১ সালে ব্যাপক ভূমিকম্প-সুনামি বিপর্যয়ের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর কারণে পরবর্তী সময়ে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতিও রেকর্ড উচ্চতায় উন্নীত হয়।

এদিকে গত মাসে রাশিয়া থেকে জাপানের খনিজ জ্বালানির আমদানি এক বছর আগের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৪ কোটি ৬০ লাখ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকেই পশ্চিমা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাপান। এ নীতির অংশ হিসেবেই দেশটি থেকে আমদানি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।