চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। যদিও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চীনসহ প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোয় আর্থিক দিক থেকে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার কর্মসংস্থানের সংখ্যা কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটিতে বেকারত্ব পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে অনাবাসিক কর্মসংস্থানের হার আরো বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই তা কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছবে। বর্তমানে অনাবাসিক কর্মসংস্থানের হার কভিডপূর্ব ২০১৯ সালের চেয়ে কম রয়েছে।
এদিকে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অভিবাসী শ্রমিক ব্যতিরেকে মোট কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বা ৬৪ হাজার ৪০০ জন। এ প্রবৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা ছিল পরিষেবা খাতের। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ খাতে মোট কর্মসংস্থান ২৭ হাজার ৩০০ জন। নির্মাণ খাতে মোট কর্মসংস্থান ২৫ হাজার ২০০ জন এবং শিল্পোৎপাদন খাতে মোট কর্মসংস্থান ১২ হাজার ২০০ জন। ওই সময়ে মোট কর্মসংস্থান বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ বা ৪২ হাজার।
এদিকে জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে। কর্মী ছাঁটাই করছে টেসলা, শপি, কয়েনবেজ এবং ক্রিপ্টোডটকমের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানও।
২০২০ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে বেকারত্বের হার তুঙ্গে ছিল। কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব কেন্দ্র করে ওই সময় বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে। কভিডের প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করলে শ্রমবাজারে পুনরুদ্ধার শুরু হয়। বর্তমানে তা স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে বেকারত্বের হার কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছেছে। শ্রমবাজারে প্রতিকূলতা ও রেকর্ডসংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও বেকারত্বের হার ২০১৯ সালের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত মাসে মোট বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। আবাসিক কর্মসংস্থানের হার ছিল ৩ শতাংশ। গত মাসে তা ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। তবে দেশের নাগরিকদের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ১ শতাংশতেই বহাল ছিল। আগামী মাসগুলোতেও কর্মী নিয়োগ হারের প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয়।









