কয়েক বছর ধরেই ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে হংকংভিত্তিক ফ্যাশন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এসপ্রিটের। এরই মধ্যে আবারো এশিয়ায় ব্যবসা চালুর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ফাস্ট ফ্যাশন কৌশল অবলম্বন করে জারার মতো কয়েকটি ফ্যাশন জায়ান্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে এসপ্রিট। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে এশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা ফের শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

বর্তমানে আরো উন্নতমানের পোশাক বিক্রির ওপর মনোযোগ বাড়াচ্ছে এসপ্রিট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলিয়াম প্যাক জানান, এ ধরনের পোশাক তুলনামূলক দামি হলেও বেশি টেকসই।

২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীতে লকডাউন জারি হয় পুরো বিশ্বে। এর জের ধরে বন্ধ হয় এশিয়ায় এসপ্রিটের ৫৬টি দোকান। চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একটি পপ-আপ দোকান খোলা হয়। আগামী মাসে হংকংয়ের কজওয়ে বে শপিং সেন্টারটি খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

উইলিয়াম প্যাক বলেন, ই-কমার্সের ওপর আমাদের মূল মনোযোগ বরাবরের মতোই থাকবে। পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারে অন্ততপক্ষে একটি এসপ্রিটের সিগনেচার দোকান থাকবে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন উপস্থিতিও থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়াসহ হংকং, তাইওয়ান ও ফিলিপাইনে অনলাইন প্লাটফর্ম চালু করেছে এসপ্রিট। এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের মূলভূমি, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশগত, সামাজিক ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমালোচনার শিকার হয়ে আসছে এসপ্রিট। এমন সময়ে নতুন কৌশল অবলম্বনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থাটি।

এদিকে আয় বাড়ানোর ওপর মনোযোগ দিচ্ছে এসপ্রিট। এ বিষয়ে উইলিয়াম প্যাক বলেন, আমরা আয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য স্থির করেছি। এসপ্রিট ফাস্ট ফ্যাশন নয়। এটা উপলব্ধি করতে অনেক সময় লেগেছে প্রতিষ্ঠানের।

বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার এশিয়া। মহাদেশটিতে মার্কেট শেয়ার ফিরে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে এসপ্রিট। তবে এক্ষেত্রে প্রতিকূলতাও রয়েছে। জারা ও এইচঅ্যান্ডএমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক টেকসই করার দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া চীনের শেইনের মতো তুলনামূলক সস্তা পণ্যের অনলাইন প্লাটফর্মও তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ফ্যাশন সাইকেলের সংগ্রহ প্রতি বছর ১২টি থেকে কমিয়ে চারটিতে স্থির করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর আবারো হংকংয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

এ কৌশল অবলম্বন করে ২০২১ সালে পাঁচ বছরে প্রথম মুনাফার মুখ দেখে এসপ্রিট। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ হংকং ডলার (৪ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার)। ১৯৬৮ সালে এসপ্রিট ফ্যাশনজগতে যাত্রা করে। সুজি ও ডগ টমপকিনস এসপ্রিটের প্রতিষ্ঠাতা।