চলতি বছরের জুলাইয়ে দুবাইয়ের আবাসন বাজারে রেকর্ডসংখ্যক লেনদেন হয়েছে। অর্থনীতি আবারো গতি ফিরে পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সবচেয়ে জনবহুল শহরটিতে রিয়েল এস্টেট বিক্রি অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রপার্টি ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, জুলাইয়ে আবাসন খাতে ৭ হাজার ৯২টি বাড়ি লেনদেন হয়েছে। এ সংখ্যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যের হিসেবে এ লেনদেন ২ হাজার ১০০ কোটি দিরহামে (৫৭০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে।
দ্য ন্যাশনাল নিউজের খবর অনুসারে, জুলাইয়ে দুবাইয়ের আবাসন খাতের লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ২০১৩ সালের জুলাইয়ের তুলনায় গত মাসে বিক্রির পরিমাণ ও বিক্রয়মূল্য বেড়েছে যথাক্রমে ৪১ দশমিক ২ শতাংশ ও ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ বিষয়ে প্রপার্টি ফাইন্ডারের ইউএইর ব্যবস্থাপক স্কট বন্ড বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা আবাসন খাতে ইতিবাচক দিক দেখেছি। এর মাধ্যমে দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট খাতের স্থিতিশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। জুলাইয়ে খাতটির কার্যক্রম আশানুরূপ ছিল। এক বছরে লেনদেনের বাজারমূল্য বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল।
কভিড-১৯ মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ইউএইর অর্থনীতি। এরই মধ্যে গত বছর থেকে সব বিভাগে দুবাইয়ে জমির দাম বাড়তে থাকে। প্রপার্টি মনিটরের তথ্য অনুসারে, জুনে লেনদেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। ওই মাসে মোট ৮ হাজার ৮৬৫টি লেনদেন হয়। এ বছর শহরের সবচেয়ে দামি বাড়ি বিক্রি হয় ২৮ কোটি দিরহামে (৭ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার)। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই এ রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে, বছরের প্রথমার্ধে দুবাইয়ে প্রাইম সম্পত্তির দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া জুলাইয়ে মোট বাড়ি বিক্রির ৫৯ শতাংশ ছিল অপ্রধান জমির লেনদেন। নির্মাণপূর্ব আবাসনের বিক্রি ছিল ৪১ শতাংশ। ওই সময়ে নির্মাণপূর্ব জমির মোট লেনদেন ২ হাজার ৯০৮টি। বার্ষিক লেনদেন বৃদ্ধির হার ৬৭ শতাংশ। বার্ষিক দাম বাড়ার হার ছিল ৮১ শতাংশেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুবাইয়ের আবাসন খাতের লেনদেন অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কভিডের প্রকোপ কাটিয়ে উঠে বাড়ি কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন দুবাইবাসীরা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শহরের বাড়ি বিক্রির ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আবাসন ভাড়া খাতে চলতি বছরের জুলাইয়ে দুবাইয়ে মোট চুক্তি হয়েছে ৪২ হাজার ৬৯৮টি। জুনের তুলনায় চুক্তি সংখ্যা বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভাড়াটেরা বর্তমান স্থানে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বাড়ি পরিবর্তন করার ঝামেলা ও এর ব্যয় ভার বহনের পরিবর্তে বর্তমান ঠিকানাতেই অবস্থান করছেন। যদিও অনেকে বাড়ি ভাড়া করার চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বাড়ি কেনার প্রতি। এর কারণ ভাড়া ও বন্ধকির মূল্য প্রায় সমপর্যায়ের। আবার কখনো ভাড়ার জন্য মোটা অংক গুনতে হয় অধিবাসীদের। ফলে দুবাইয়ের আবাসন খাতের লেনদেন অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পায়। নাগরিকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি গোল্ডেন ভিসার কারণে দুবাইয়ে বসত গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অভিবাসীরা।









