জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা ব্যয় নিম্নমুখী থাকবে। মূল্যস্ফীতির হার ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গত মাসে সরকারি দেনার ওপর সুদের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) জানায়, গত মাসে সরকারি ঋণ ৪৯০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে। অথচ এর আগে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ওই মাসে সরকারি ঋণ হবে ২৮০ কোটি পাউন্ড। ওএনএস জানিয়েছে, গত মাসে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রি দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, খুচরা বিক্রি দশমিক ২ শতাংশ কমবে।

স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেলেও মে-জুলাইয়ে খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় ভোক্তাদের ব্যয়ে তার প্রভাব পড়েছে।

এ বিষয়ে ওএনএসের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পরিচালক ড্যারেন মরগ্যান জানান, গত বছরের গ্রীষ্মে খুচরা বিক্রি নিম্নমুখী হতে শুরু করে। গত মাসে বিক্রি সামান্য বাড়লেও নিম্নমুখী প্রবণতা এখনো বিদ্যমান। এ মাসে অনলাইন বিক্রি বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছে, অফার ও প্রচারের জের ধরে খুচরা বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পোশাক ও পারিবারিক পণ্যের ব্যয় আবারো কমেছে। পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে ব্রিটিশদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। এতে করে অর্থ ব্যয় সংকুচিত হয়েছে ব্রিটিশদের।

এদিকে মূল্যস্ফীতির হারকে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। চলতি বছরের জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাজ্যের সরকার ৮০ কোটি পাউন্ডের কম ঋণ করেছে।

গত মাসে ঋণের সুদের পরিমাণ ৫৮০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে সুদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৫০ কোটি পাউন্ড। মূলত খুচরা পণ্যসূচকের মূল্যস্ফীতির কারণে সুদের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। ওএনএস জানিয়েছে, একই সঙ্গে জুলাইয়ে সরকারি ব্যয় ৩৪০ কোটি পাউন্ড বেড়ে মোট ৭ হাজার ৬৫০ কোটি পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ বিশ্বব্যাপী দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতির হার ক্রমে বাড়িয়ে চলেছে। এর জের ধরে পণ্যদ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মূল্যস্ফীতির হারকে বশে আনতে দফায় দফায় সুদের হার বাড়িয়ে চলেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো।

এ বিষয়ে চ্যান্সেলর নাধিম জাহাউয়ি বলেন, আমি জানি পরিবার ও ব্যবসার জন্য মূল্যস্ফীতির হার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ কঠিন সময়ে মানুষের কল্যাণে শিগগিরই সরকারি সহায়তা এসে পৌঁছবে। বিশেষ করে অবসর ভাতাপ্রাপ্ত, নিম্ন আয়ের ও প্রতিবন্ধীদের এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হবে। ওএনএস জানায়, গত মাসে বিক্রির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। অথচ জুনে বিক্রির হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।