হীরা খনি খননে বিশ্বের অন্যতম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ডি বিয়ার্স। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমান অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার ডেবসোয়ানায় একটি যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মোকউইতসি মাসিসি বলেছেন, এ উদ্যোগে যে হীরা উৎপাদন হয় তার বতসোয়ানার অংশের দাম কমানো হবে না। আগামী জুনে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদ বৃদ্ধিবিষয়ক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। খবর রয়টার্স।
২০২২ সালে ডেবসোয়ানার মোট উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৪০ লাখ ক্যারট হীরা ডি বিয়ার্সের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। বাকি অংশ বিক্রি করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওকাভানগো ডায়মন্ড কোম্পানির (ওডিসি) কাছে। ডি বিয়ার্সের বাইরে বিক্রির জন্য বাজার খুঁজছিল বতসোয়ানা। তারই অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ওডিসির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। উল্লেখ্য, ডি বিয়ার্সের ৭০ শতাংশ হীরার জোগান দেয় বতসোয়ানা।
গত মাসে মাসিসি অনেকটা হুমকি দিয়েই বলেন যে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনের একটি বড় অংশের অংশীদারত্ব না পেলে চুক্তি নবায়নের আলোচনা থেকে সরে আসবে বতসোয়ানা। তবে ঠিক কত অংশ চান, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাসিসি বলেন, ৫৪ বছর আগে সম্পাদিত একটি চুক্তির অধীনে গঠন করা যৌথ উদ্যোগে আর হীরা বিক্রি করতে চায় না তার দেশ। ডি বিয়ার্সের বাইরে অমসৃণ, পালিশবিহীন হীরা বিক্রি করে দেখা গেছে যে অন্য কোথাও বিক্রি করলে সরকার আরো বেশি রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম। মাসিসি বলেন, ‘এসব হীরা আমাদের সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে যৌথ অংশীদারত্বের উদ্যোগে এসব বিক্রি হয়ে আসছে। কিন্তু আমার মনে হয়, যেহেতু এগুলো আমাদের সম্পদ, তাই আমরা আরো বেশি পাওয়ার দাবিদার। তবে আলোচনার মাধ্যমেই সব ঠিক করা হবে।’
সবশেষ শুক্রবার মাসিসির সঙ্গে বৈঠক করেন ডি বিয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল কুক। এ সময় গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান তিনি। বতসোয়ানার সঙ্গে চুক্তি আরো দীর্ঘমেয়াদি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।









