বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেছেন, অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি দীর্ঘ মেয়াদে স্বস্তি না দিলেও বর্তমানে এর কোনো বিকল্প নেই। সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নাজুক। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে এখনই বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আশরাফ আহমেদ বলেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে আমাদের শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না এবং বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বর্তমানে যে পরিকল্পনা করছি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বা ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটা প্যারামিটার সেট করছি। কিন্তু সেই সময়ে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোও একই ভাবে তাদের অর্থনীতি এগিয়ে নেবে। ফলে আমাদের সেই বিষয়গুলোও মাথায় রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য সেট করা দরকার।

এ সময় ডিসিসিআই সভাপতি সমসাময়িক অর্থনীতি বিষয়ক ১২টি বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ২০২৪ সালে ডিসিসিআই’র কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, এবছর ঢাকা চেম্বার সিএমএসএমই, আমদানি বিকল্প শিল্পখাত, আর্থিক খাত, পুঁজিবাজার, ট্যাক্সেশন, বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণ এবং স্মার্ট অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়গুলোর ওপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করবে এবং বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত সুপারিশালা উপস্থাপন করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে আশরাফ আহমেদ বলেন, আমাদের অর্থনীতি বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, খেলাপি ঋণ, পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা, ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট এবং টাকার অবমূল্যায়ন প্রভৃতি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তবে বাংলাদেশের এ ধরনের সমস্যাসমূহ বেশ সফলতার সঙ্গেই মোকাবেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আশা করছি পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা বেশ সফলতার সঙ্গেই মোকাবেলা করে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবো।

তিনি বলেন, বিবিএসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যের স্বচ্ছতা উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আমাদের বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারি খাতও সমস্যাটির মুখোমুখি হচ্ছে। চলতি বছরে দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যৎ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিময় এবং ডিজিটাল কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি খুবই জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

দেশের আমদানি বিকল্প শিল্পের উন্নয়নে সিএমএসএমইসহ স্টার্ট উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি।