পরিবর্তন আসতে পারে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিতে। শীতকালে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাসের ঘাটতি পূরণে নেয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি মার্কেট অপারেটর (এইএমও)। খবর রয়টার্স।

গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ছে। তার পরও দেশটির দক্ষিণাংশে সরবরাহ অনেকাংশেই কমেছে। যে কারণে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ শূন্যতা। এইএমওর নির্বাহী প্রধান ড্যানিয়েল ওয়েস্টাম্যানের দাবি, ঘাটতির ঝুঁকি কমাতে আগে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি। সেই সঙ্গে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্পের কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে নতুন গ্যাস স্টোরেজ স্থাপন ও পাইপলাইনের উন্নয়ন। ভূমিকা রাখতে পারে এলএনজি আমদানির জন্য স্থাপিত টার্মিনাল।

২০২৩-২৬-এর শীত মৌসুমে গ্যাসে ঘাটতির ঝুঁকি থাকবে। প্রয়োজনীয় গ্যাস মজুদ না থাকলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন ড্যানিয়েল। ২০২৬ সালের মধ্যেই গ্যাসের চাহিদা পূরণে নতুন পথ নিয়ে ভাবতে হবে দেশটিকে। হয় সরবরাহ বাড়াতে হবে, না হলে চাহিদা পূরণে হাতে নিতে হবে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন প্রকল্প। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্যাস উৎপাদন হয়। তবে অধিকাংশ সরবরাহই রফতানিমুখী।

নিউ সাউথ ওয়েলসের কেম্বলা বন্দরে স্থাপিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম এলএনজি আমদানির টার্মিনাল। দেশটির দক্ষিণাংশে গ্যাস সরবরাহের টার্মিনালটি। সম্প্রতি টার্মিনালটির উন্নয়নে বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সরবরাহে। 

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বেড়ে গেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে কঠিন হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত বছরের ডিসেম্বরে সে বিবেচনাতেই ১২ মাসের জন্য মূল্যনির্ধারণ করে দেয় দেশটির সরকার।

দেশটির পূর্ব উপকূলে এলএনজি গ্যাস রফতানির তিনটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। কোনোকো ফিলিপস পরিচালিত অস্ট্রেলিয়া প্যাসিফিক এলএনজি, সান্তোস লিমিটেড পরিচালিত গ্ল্যাডস্টোন এলএনজি ও শেল পরিচালিত কুইন্সল্যান্ড কুর্টিস এলএনজি। সরকারের মূল্যনির্ধারণের সিদ্ধান্তে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিল তারা। জানিয়েছে এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ কমে গিয়ে সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।