আগামী বছরের আয়ের পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে ট্যুরিজম অথরিটি অব থাইল্যান্ড (টিএটি)। পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৩ সালে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি থাই বাথ আয় করবে সংস্থাটি। তবে ক্রমাগত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার ও সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সুদ ও মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির আঘাত এসে আছড়ে পড়ছে দেশটির পর্যটন খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে। খবর ব্যাংকক পোস্ট।
এ বিষয়ে টিএটির গভর্নর ইয়ুথাসাক সুপাসর্ন বলেন, কভিডের প্রকোপ কাটিয়ে উঠে ২০২৩ সালে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্প খাত। সব থেকে খারাপ পরিস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি বাথ আয় করবে টিএটি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি বাথ এবং সব থেকে ভালো অবস্থায় ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি বাথ পর্যন্ত আয় করবে সংস্থাটি। চলতি বছর দেশটির দেড় লাখ কোটি বাথ আয় হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে টিএটি।
এ বিষয়ে ইয়ুথাসাক সুপাসর্ন জানান, এ বছরের শেষে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা ১ কোটিতে দাঁড়াবে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখে। সব বন্দরে দৈনিক পর্যটকদের সংখ্যা বর্তমানে ৩০ হাজার। সে হিসাবে মাসপ্রতি পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভ্রমণের মৌসুম। ওই সময় মাসপ্রতি পর্যটকদের সংখ্যা ১৫ লাখ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জনপ্রতি ব্যয় ছিল ৭৭ হাজার বাথ। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এসে জনপ্রতি ব্যয় কমে দাঁড়ায় ৫৫ হাজার বাথ। ওই সময় মূলত পর্যটকদের ভ্রমণের সময় কম ছিল বলে ব্যয় কমেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। এতে করে ব্যয় কমিয়ে আনছেন পর্যটকরা। আর্থিক পরিস্থিতির এ দশা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ও আগামী বছরও ভ্রমণার্থীর সংখ্যা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বছরপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৫৪ হাজার বাথ গড় ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে টিএটি। তবে বিদ্যমান এ চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে আয়ের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস বলছে, আগামী বছর ১ কোটি ১০ লাখ থেকে তিন কোটি পর্যন্ত পর্যটকদের স্বাগতম জানাবে থাইল্যান্ড। নির্ধারিত আয়ের লক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধি।
এ বিষয়ে ইয়ুথাসাক সুপাসর্ন বলেন, তিন কোটি পর্যটকের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিধিনিষেধ কাটিয়ে উঠে চীনা পর্যটকরা ভ্রমণ শুরু করলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। আপাতত ২০২৩ সালের পর্যটকদের পূর্বাভাসে আমরা চীনের বাজারকে গণনায় ধরছি না। যেহেতু দেশটিতে কভিডের কারণে বিধিনিষেধ এখনো সম্পূর্ণ শিথিল করা হয়নি।
চীনের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে দেশটি। সৌদি আরব ও ওমান থেকে দুই অংকের আয় প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে টিএটি।









